চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ নিয়ে সংশয়

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২৪ ১৪:২৯:৩০ || আপডেট: ২০১৮-১০-২৪ ২১:৫০:১০

সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত প্রথম সমাবেশ আজ। প্রথম দিকে অনুমতি না মিললেও শেষে একদিন পিছিয়ে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে নতুন এই জোট। তবে এখনও সংশয় রয়ে গেছে চট্টগ্রামে ২৭ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ নিয়ে। গত ২০ অক্টোবর লালদীঘি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও এখনও সে বিষয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে। আর এতেই চট্টগ্রামের সমাবেশ ঘিরে সংশয় তৈরি হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ নিয়ে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। জোট নেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর লালদীঘি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হবেই। প্রশাসন সিলেটে যেভাবে অনুমতি দিয়েছে চট্টগ্রামেও সেইভাবেই অনুমতি আদায় করা হবে।

নগর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সমাবেশের কথা জোর দিয়ে বলা হলেও হার্ডলাইনে রয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে মিরসরাই উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত ২১ অক্টোবর আইসিটি মামলায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ওইদিন রায়ের পর পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ১৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। সেই মামলায় সোমবার (২২ অক্টোবর) গ্রেফতার করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে। আত্মগোপনে রয়েছেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন। সবমিলিয়ে নেতৃত্বহীন নগর বিএনপির সক্রিয় কর্মীরা গ্রেফতার ও মামলা আতঙ্কে ঘরছাড়া।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু তাদের কোনো আশ্বাস দেননি সিএমপি কমিশনার।

এ বিষয়ে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন এখনও এ বিষয়ে কিছু না জানালেও আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সিলেটে অনুমতি দেয়া হয়েছে, এখানেও অবশ্যই আমরা অনুমতি পাবো। ইতোমধ্যেই দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে সমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা তারা করেছে। সমাবেশে আমরা সেই সব গ্রেফতার-হয়রানির প্রতিবাদ জানাবো।’

এদিকে নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা সিএমপি কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে এখন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলছে। এর সঙ্গে উভয় দলের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। তাই সমাবেশের অনুমতির বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে।’

তবে নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান মনে করেন, ২৭ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ওইদিন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের কোনো খেলা নেই। খেলোয়াররা থাকবেন তাদের হোটেলে। প্রশাসন চাইলে এটি কোনো বাধা নয়।