চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

আগামী নির্বাচনেও শিক্ষকদের পাশে চান প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-১০-২০ ২২:৪৪:০৭ || আপডেট: ২০১৮-১০-২১ ১৩:০০:০২

সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের কারণে শিক্ষায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের প্রথম সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এই আয়োজনে শামিল হন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়াই হাজার শিক্ষক। উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম সমুন্নত রাখতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।

পরে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আশ্বাস দেন, গুণগত শিক্ষার প্রসারে করণীয় সব করার। তুলে ধরেন শিক্ষাখাতে সরকারের টানা ২ মেয়াদে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। দাবি করেন, সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের কারণেই শিক্ষায় আগ্রহ বেড়েছে মানুষের।

আধুনিক, যুগপোযোগী ও কারিগরি শিক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তাগিদ দেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারেও আন্তরিক সরকার।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু মনে করে, তাদের দ্বারা দেশের উন্নতি হয় না।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি দেশবাসীকে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু বাস্তবায়নে সাঁরথি হওয়ায় ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চলমান গতি বজায় থাকে এবং আমাদের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো শেষ করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে হয়তো নির্বাচিত হয়ে আসব। আর যদি নাও দেয় তাহলেও কোনো আফসোস থাকবে না। কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা শুরু করেছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে তা আপনারাই নিশ্চিত করবেন, সেটাই আমি চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার একটা লক্ষ্যই ছিল টানা দুই মেয়াদে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারে তবে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হবে, যেমনটি নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারপরও সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং নির্বাচনে সবাই যেমন ভোট চায়, আমরাও ভোট চাই। যাতে করে আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে।’

৩২০০ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করায় বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামগঞ্জের মানুষ এখন যে পাচ্ছে, মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা যে বেড়েছে, সেটা ধরে রাখতে হবে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে হবে, আমি আশা করি হয়তো তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের আবার সেবা করার সুযোগ দেবে।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

এফবিইউটিএ’র সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবায়তুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগসমূহ নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি প্রামাণ্য চিত্রও পরিবেশিত হয়।