চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

কর্ণফুলীর ছাত্রলীগ নেতা মামুন হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় জনতা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৭ ২৩:৪৫:২৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-১৭ ২৩:৪৫:২৯

আব্দুল কাইয়ুম
কর্ণফুলী থেকে 

ঘটনার ২২ দিনেও কর্ণফুলীর ছাত্রলীগ নেতা মামুন আল রশিদ সাগর হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ন কোন অগ্রগতি নেই।

খুন হওয়া ছাত্রলীগ নেতা মামুনের ভাই বাদি হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে ১০ জনকে আসামি করে যে মামলা করেছেন সেখান থেকে গ্রেফতার হয়েছে মোহাম্মদ ওমর নামের একজন।

গ্রেফতারকৃত আসামী ওমর এর দেয়া তথ্যে পুলিশ মামুন হত্যায় ব্যবহৃত কিরিচ ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে তার বাড়ি থেকে। ওমর কর্ণফুলী থানাধীন শাহ মীরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল আহমেদের ছেলে। এরপর ওমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধিও দেয়। অগ্রগতি ওই পর্যন্তই।

মূল আসামিরা ধরা না পড়ায় বুধবার সন্ধ্যায় মামুনের বাড়ির কাছেই কর্ণফুলী উপজেলার শাহমিরপুর এলাকায় রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয় জনগন ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। রাত ১০টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে তারা সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত বড়উঠান ইউনিয়নের বাদামতল রাস্তার মাথা বিক্ষুব্ধ জনগন এ অবরোধ করে। ফলে সড়কের উভয় পাশের চলাচলরত যানবাহন আটকে পরে। অবরোধকারীরা মামুন হত্যার বিচারের দাবীতে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে থাকে। অবরোধে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের।

চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ঘটনার ২২ দিন পার হয়ে গেলেও মামুন হত্যার আসামী একজন ছাড়া বাকীরা গ্রেফতার হয় নি। এক্ষেত্রে প্রশাসনে অবহেলা আছে বলে মনে হচ্ছে।

উল্লেখ্য,  গত ২৬ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও আধিপত্যের জেরে ছাত্রলীগ নেতা মামুনুর রশিদ খুন হন। এ সময় মামুনের সাথে থাকা আরেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার একদিন পর নিহতের বড়ভাই মো: ইয়াছিন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৫/৬জনকে আসামী করে কর্ণফুলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু মামলার ৩ নং আসামি মোহাম্মদ ওমর ছাড়া আর কাউকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের সবাই মামুনের একই এলাকার বাসিন্দা।

কর্ণফুলী থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, মামুন হত্যা মামলার আসামি ওমর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। বাকীদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারপরও অবরোধের নামে জনদুর্ভোগ বাড়ালো কেন বুঝতে পারছি না।