চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

খুনিদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন ড. কামাল হোসেন গং: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৪ ১৭:৪৯:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-১৫ ১১:০৫:০৩

খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন গং ঐক্য করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, অগ্নিসন্ত্রাস করে, যারা এতিমের টাকা মেরে খায় আজ তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন সেই কামাল হোসেন গং।

তিনি নেতা মেনেছেন এমন একজনকে যিনি পলাতক, মানি লন্ডারিংয়ে সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপির সেই পলাতক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার অধীনেই ড. কামাল হোসেন গং ঐক্য করেছেন, আরও কিছু খুচরা আধুলি। মুখে নীতি কথা বলেন, অথচ নীতিবানরাই খুনি ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে ঐক্য করেছে।

রবিবার বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে যারা খুন করেছিলো সেই খুনি মোশতাকদের পুনর্বাসন করেছিল জিয়াউর রহমান। আর ২১ আগস্ট আমাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে হামলা করেছিলো খালেদা জিয়া। আইভি রহমানসহ অনেককে তারা খুন করেছে।

‘এমনই এই ভয়াবহ হামলার আলামত নষ্ট করে জজ মিয়া নাটক সাজায়। এরা খুনি, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায়। মানুষের ওপর নির্যাতন করে। ২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে ৩ হাজার ৮শ’র মতো মানুষকে হত্যা করে। অগ্নি-সন্ত্রাসে যারা বেঁচে আছে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছে।’

‘জামায়াত-বিএনপি এক জোট’ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, একাত্তর সালে জামায়াত এদেশে বর্বরতা চালায়। আর সুযোগ পেলেই এখনও এরা মানুষ হত্যা করে।’

২০০৯ সালের তৎকালীন বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও বিএনপি-জামায়াত জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের পেছনেও বিএনপি-জামায়াতের হাত ছিলো। নয়তো এমনিতে খালেদা জিয়া ১২টার দিকে ঘুম থেকে ওঠেন আর ওইদিন তিনি ভোরেই ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যান। এতেই প্রমাণিত তিনি ওই ঘটনায় জড়িত।

বিডিআর বিদ্রোহে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে দলের সভাপতি বলেন, এ ঘটনায় ৫৭ সেনা অফিসারের মধ্যে ৩৩জনই আওয়ামী পরিবারের সঙ্গে জড়িত।

ড. কামাল হোসেনসহ নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মানুষের উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। জিনিসপত্রের দাম সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু তাদের চোখে এসব পড়ে না। তারা আসলে কী চান?

‘তাদের উন্নয়ন সন্ত্রাসের উন্নয়ন, তাদের উন্নয়ন মানি লন্ডারিংয়ের উন্নয়ন। মানুষ কাজ পাবে কিংবা উন্নত জীবন-যাপন করবে এটা তারা চান না। তাই উন্নয়নও তাদের চোখে পড়ে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ড. কামাল হোসেনকে সাবাস জানাই, তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা ছেড়ে ধানের শীষের মুঠো ধরেছেন। কিন্তু ধানে শীষ নেই চিটা ধরেছেন। তবে এক্ষেত্রে ঠিকই আছে- কামাল হোসেনও কালো টাকা সাদা করেছেন, তারেক জিয়াও করেছে। রতনে রতন চেনে।’

জনসভায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারে প্রত্যেক জেলা উপজেলায় স্কুল-কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

ভবিষ্যতেও উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য (এমপি) আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মাদারীপুর-১ আসনের এমপি নূরে আলম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।