চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

‘ড. ইউনুসের প্ররোচনায় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করেনি বিশ্বব্যাংক’

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৪ ১৫:০৯:৪০ || আপডেট: ২০১৮-১০-১৪ ১৭:৪৯:০১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ড. ইউনুসের প্ররোচনায় পদ্মা সেতুতে অর্থ বন্ধ করে দিতে দুর্নীতির তোলা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত শেষে প্রমাণিত সব অভিযোগ ভুয়া ও মিথ্যা। রোববার (১৪ অক্টোবর) মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর নামফলক উম্মোচন শেষে বেলা ১১টায় টোলপ্লাজা সংলগ্ন গোলচত্বরে সুধি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

সরকার প্রধান বলেন, অনেকের ধারণা ছিল বিশ্বব্যাংক ছাড়া পদ্মা সেতু হবে না। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়েছে, চলবেও। জনগণের আস্থায় নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। পদ্মাসেতুর ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে, যা খুবই গৌরবের।

তিনি বলেন, নিজের জন্য রাজনীতি করি না, এদেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করি।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমে পদ্মাসেতুর কাজ আমি শুরু করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ফের ক্ষমতায় এসে কাজ শুরু করি। নিচে রেল ও ওপরে সেতু এমন একটি ডিজাইন অনুমোদন দিই। তখন বিশ্বব্যাংকসহ অনেকে এগিয়ে এসেছিল কাজটি করার জন্য। কিন্তু দেশের কিছু মানুষ আছে, যারা দেশের স্বার্থ দেখেন না।

তিনি বলেন, ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে ড. ইউনুসের সঙ্গে আমার পরিচয়। তখন তাকে সহায়তা করেছিলাম। তিনি (ইউনুস) বলেছিলেন, তাকে যদি একটি ফোনের অনুমোদন দেয়া হয়, তবে তার লাভ দিয়ে গ্রামীণ মানুষের উপকার করতে পারতেন। কিন্তু ওই ফোনের কোনও লভ্যাংশ গ্রামীণ ব্যাংক পায়নি।

৯৮ সালে ব্যাংকটি বিপদে পড়লে ৪শ’ কোটি টাকা সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে কোনও ব্যক্তি ৬৯ বছর পর্যন্ত এমডি থাকতে পারবেন। কিন্তু অনুমোদন ছাড়াই ড. ইউনুস ১০ বছর এমডির পদ দখল করে রাখেন ও সরকারি বেতন নিতেন। তখন তাকে নোটিশ দেয়া হয়, তিনি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এমডি পদ দখল করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, তাকে কখনও অসম্মান করতে চাইনি, তার সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও গওহর রিজভী গিয়ে দেখা করে তাকে গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা করে রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি তা না মেনে দু’টি মামলা করলেন। কিন্তু আইনে দেখা গেল, ষাট বছরের বেশি তিনি এমডি থাকতে পারেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, ইচ্ছা করলে অবৈধভাবে নেয়া তার ১০ বছরের বেতন নিয়ে নিতে পারত আদালত। আদালত তা নেননি। কিন্তু ড. ইউনুস ক্ষেপে গেলেন।

তিনি বলেন, ইউনুসকে গ্রামীন ব্যাংকের এমডি পদে রাখতে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্লিনটন ফোন করেছেন, ব্রিটেনের শেরি ব্লেয়ার ফোন করলেন। কিন্তু আমরা বলেছি, এটা আইনে নেই। আইনে পড়ে না। তাকে সম্মান রক্ষার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সেই সম্মান তিনি রক্ষা করেননি।

সরকার প্রধান আরও বলেন, তখন আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে এসে হুমকি দেয়া হত, ই্উনুসকে এমডি না রাখলে পদ্মা সেতুতে হেল্প করা হবে না। পরবর্তীতে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার সিদ্ধান্ত নেই।

এসময় বিস্ময় প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাকে কেন একটা ব্যাংকের এমডি থাকতে হবে। যারা গরীবের সুদের টাকায় বড়লোক হয় তাদের আবার কিসের দেশপ্রেম। তাদের দেশপ্রেম থাকতে পারে না। দেশপ্রেম থাকলে দেশের উন্নয়ন বিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে পারতো না। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ঠেকানোর চক্রান্ত করতে পারতো না।

এর আগে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নামফলক উম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর নামফলক উম্মোচনের পাশাপাশি এন-৮ মহাসড়কের ঢাকা-মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি পরিদর্শন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, মূল নদীশাসন কাজ সংলগ্ন স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।