চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

যে কারণে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বাদ পড়লেন বি চৌধুরী

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৩ ২২:০৫:৩১ || আপডেট: ২০১৮-১০-১৪ ০৯:৫৮:০২

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের শুরুতে বিকল্পধারার সভাপতি বি চৌধুরীকে বেশ উদ্যোগী ভূমিকায় দেখা গেলেও পরে তিনি এবং তার ছেলে দলের যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি করেন। বিশেষ করে ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপি যোগ দেওয়ার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের মতামতকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার বিষয়টি বি. চৌধুরী সহজভাবে নেননি।

একদিকে বি চৌধুরীকে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মুসলিম লীগের সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য দিতে, অন্যদিকে ঐক্য গঠনে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ইসলামপন্থি কোন দলকে যুক্ত না করার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি দাবি তোলেন, বিএনপিকে ২০ দলীয় জোট ভেঙে জামায়াতের সংশ্রব ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে জাতীয় ঐক্যে আসতে হবে। কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির নেতারা এতে অপারগতা জানালে ঐক্য গঠনের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার (১২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে নতুন জোটের ঘোষণা পত্র নিয়ে আপত্তি জানান বিকল্পধারার প্রতিনিধি মাহী বি চৌধুরীি। তিনি দাবি তোলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা’ ঐক্য প্রক্রিয়ায় থাকতে পারবেন না। ঐক্য প্রক্রিয়ার ওই সভায় অংশ নেওয়া অন্য নেতারা শুধু ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ কথাটি রাখার পক্ষে মত দেন। তবে মাহী নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।

সূত্র আরও জানায়, অা স ম রবের বাসার বৈঠকে দলের মহাসচিব মেজর (অব.) মান্নানের সঙ্গে আবদুর রবের সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে জামায়াত থাকার বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিকল্পধারার নেতারা দাবি করেন, জামায়াতকে বাদ না দিলে বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনও ঐক্য হবে না। অার জেএসডি, নাগরিক ঐক্য অার গণফোরামের নেতারা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেন।

এ সময় মাহী বলেন, হয়তো আজ আমরা আন্দোলন করলাম। কাল আবার ২০ দল আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে নিয়ে অন্যকিছু করবে। কাজেই আন্দোলন ও নির্বাচন নিয়ে একসঙ্গে বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তড়িঘড়ি কিছু করা যাবে না।

এর আগে নিজ দলের জন্য ১৫০ আসনে প্রাথী বরাদ্দের দাবি করেন বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী।

সূত্র জানায়, ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠকে মাহীর অবস্থান ও বক্তব্য নিয়ে সেখানকার অন্য নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। তাই বৈঠক শেষে ঐক্যের নেতাদের পক্ষ থেকে বি চৌধুরী সঙ্গে যোগাযোগ করে মাহির আপত্তির বিষয়টি জানানো হলে বিকল্পধারা চেয়ারম্যান জানান, মাহির বক্তব্যই তার বক্তব্য। বি চৌধরীর এ কথার মধ্য দিয়ে ত্বরাণ্বিত হয় বিকল্পধারাকে না নিয়ে ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন।

এরই প্রেক্ষিতে শনিবার বিকল্পধারার চেয়ারম্যান বি চৌধুরী, মহাসচিব মেজর মান্নান এবং যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টার উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেনের বাসায় মিটিং করতে গিয়ে দরজা বন্ধ পাওয়ায় ফিরে যান। এসময় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অন্যদলগুলোর নেতারা বৈঠক করলেও তাদেরকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারবিরোধী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটে রয়েছে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য ও জেএসডি। বাদ পড়ে বি চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ।