চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

রাত হলেই আতঙ্ক: মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড অংশে ডাকাতের আনাগুনা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১১ ১৯:৩২:৪৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-১১ ২৩:৪৮:২৭

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড অংশে রাত হলেই বাড়ে আতঙ্ক। পরিবহন চালকদের মাঝে আতঙ্কের স্থান হিসেবে পরিচিত মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড অংশ। সেবা পেট্রোল পাম্প থেকে চারালকান্দি পর্যন্ত এই জায়গাটিজুড়ে সব সময় থাকে ডাকাত দলের আনাগুনা। প্রায় সময় রাতেই ঘটে ডাকাতির মত ঘটনা। চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় টাকা, মোবাইল, দামী মালামাল। আর এসময় চালকরা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় নির্যাতন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার সময় ডাকাতদলের চুরিকাঘাতে মোঃ সরোয়ার (৪০) নিহত হয়েছে। ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

নিহত ট্রাক ড্রাইভার সরোয়ার ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ থানার আলিনগর মিঠানগর গ্রামের দুলা কাজীর পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই এলাকাটিতে প্রায় সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আর এসময় খবর পেয়ে পুলিশ হুইছেল বাজিয়ে আসার কারনে দূর থেকে ডাকাতরা সতর্ক হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকলেও ডাকাত দলের সদস্যরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যার কারনে দিন দিন তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চালক বলেন, ডাকাত দলের ফাঁদে আমিও একবার পড়েছিলাম। তবে তাদের ফাঁদে আমি পা না দেওয়াতে হয়তো আমি বেঁচে গিয়েছি। কিছুদিন আগে গাড়ি নিয়ে সীতাকুণ্ড ফেরার মত ওয়াবদা গেইটের আরেকটু উত্তরে রাস্তার পাশে বড় একটি নতুন বক্স পড়ে থাকতে দেখি। যা মহাসড়কের উপরে দাড় করানো অবস্থায় ছিল। তখন প্রায় রাত ২টার সময়। আমি প্রথম ভাবলাম কোন গাড়ি থেকে মালগুলো পড়ে গেছে। আবার হঠাৎ গাড়ি থামাতে গিয়েও থামায়নি অন্য একটা মনে করে। কারন আমি ওই এলাকায় ডাকাতির কথা জানতাম।

সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের সদস্যরা মহাসড়কের ডাকাতি করার সময় একেক সময় একেক কৌশল ব্যবহার করে থাকে। তাদের কৌশলে থাকে কিভাবে একটি দ্রুত গতির গাড়িকে থামানো যায়। অনেক সময় ড্রাইভারদের মহাসড়কের পাশে কিছু দামী জিনিস পেলে রেখে লোভ দেখিয়ে গাড়ি থামানো হয়। অনেক সময় খুব কিছু ভাঙ্গার শব্দ করে গাড়ি থামানো হয়। যাতে করে ড্রাইভার মনে গাড়ির কোন কিছু ভেঙ্গেছে। আরো নানান কৌশলে গাড়ি থামিয়ে তার ডাকাতি করে থাকে।

ডাকাতির বিষয়েটি স্বীকার করে সীতাকুণ্ড মডেল থনার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, বাড়বকুণ্ড এলাকায় ডাকাতির তথ্য আমাদের কাছে আছে। খুনের ঘটনার সময়ও পুলিশ পাশে ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পুলিশ ডাকাতদের পাহারা দেয় আর ডাকাতরা পুলিশকে পাহারা দেয়। আর খুনের সময় বৃষ্টি থাকার কারনে সড়কও একটু পিচ্ছিল ছিল সব মিলিয়ে ডাকাতরা আরো বেশি সুযোগ পেয়েছে। তিনি আরো জানান, আমাদের টহল টিম আরো বাড়ানো হবে। ভবিষ্যতে আর ডাকাতির ঘটনা হবেনা বলে তিনি জানান।