চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা, সরকারের ৯ সংস্থাকে চিঠি

প্রকাশ: ২০১৮-১০-১০ ১০:৪৭:১০ || আপডেট: ২০১৮-১০-১০ ১৫:১২:২৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনায় চট্টগ্রামে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছে রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজবুত তাহরির, জেএমবি ও এর সহযোগি অন্যসব জঙ্গি সংগঠনগুলো।

ইতোমধ্যে এসব জঙ্গি সংগঠন গুলো শিখর গেড়ে শক্তি সঞ্চয় শুরু করেছে। ভারতীয় একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের দফতরে পাঠানো এক চিঠিতে এ খবরটি জানা গেছে।

সিএমপির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই চিঠিটি ৭ অক্টোবর রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপির সদর দফতরে এসে পৌঁছে।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একই প্ল্যাটফর্মে এসে সম্মিলিতভাবে নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশে বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের ব্যক্তি, বিদেশি নাগরিক এবং অন্যধর্মানুসারীদের আক্রমণের পরিকল্পনা করছে তারা।

চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে সিএমপির ওই দায়িত্বশীল কর্তকর্তা বলেন, নির্বাচনের আগেই ৩০০ নতুন সদস্য সংগ্রহ, চট্টগ্রামে ২ সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন ৫০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ আছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত-ঘেঁষে ঘাঁটি গেড়েছে জেএমবি ও অন্যসব জঙ্গি গোষ্ঠী। সেখানে পাকিস্তানি লস্কর-ই-তাইয়্যেবার সদস্যরাও অবস্থান করছে। ভারতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন সূত্রে চিঠিতে এসব কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রামের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চট্টগ্রামের র‍্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর ৮৭ জঙ্গি-জেএমবি সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন জামিনে কারাগার থেকে বের হন। ওইসব জঙ্গি-জেএমবি সদস্যের উপর নজরদারি ও খোঁজ খবর নেয়া শুরু করেছে র‍্যাব এবং পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরে বিভিন্ন সময় পুলিশ ও র‍্যাব মোট ৮৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে জেএমবির ২৫ জন, হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ৮ জন, হিজবুত তাহরীরর ৩৩ জন এবং হামজা ব্রিগেডের ২১ জন নেতা-কর্মী। সেসবের ৫৯ জনই জামিনে মুক্তি পেয়েছে বিভিন্ন সময়। তারা এখন কোথায় এবং কি করছে সেটি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই প্রশাসনের ।

র‍্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথে হামলার টার্গেট করছে জঙ্গিরা। সেলক্ষ্যে বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের পাশে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ছে। এছাড়া আদালতসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা তাদের টার্গেটে আছে। ধারণাটি নিয়েই র‍্যাব মাঠে কাজ করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত-উপ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজমের প্রধান পলাশ কান্তি নাথ বলেন, ২৮ জন জঙ্গি কারাগারে আটকে আছে। তাদের মধ্যে নারী জঙ্গি আরজিনাও রয়েছে। দেড় মাস আগে দুই জঙ্গি জামিনে বের হয়েছে। এরই মধ্যে সারাদেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কা প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পুলিশও র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ৯টি সংস্থাকে একটি দিয়েছে।

নির্বাচনের পূর্বে নতুন করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ও এতে করণীয় হিসেবে ১১টি সুপারিশ রয়েছে।

ওই ১টি সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, জামিনে মৃক্ত আসামিদের নিয়মিত হাজিরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, জামিনে মুক্ত জঙ্গি ও তাদের পরিবার পরিজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো, মাঠ পর্যায়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা, সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে সীমান্ত টহলে বিজিবির তৎপরতা আরও বাড়ানো, জঙ্গি হামলার শঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বলয়ে নিয়ে আসা।

একইভাবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জঙ্গি মতাদর্শের বিপরীতে প্রচারণা চালানো এবং অনলাইনে জঙ্গিবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জেলখানায় আটক জঙ্গিদের আত্মীয় ও অন্যদের মাধ্যমে যাতে তথ্য আদান-প্রদান করতে না পারে সেজন্য জেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।