চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গ্রেনেড হামলার রায়, নেতাকর্মীদের সতর্ক করল আ.লীগ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৯ ২২:৩৬:০৮ || আপডেট: ২০১৮-১০-১০ ১০:১৪:২০

আলোচিত গ্রেনেড হামলার রায়কে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীদেরকে সতর্ক করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীরা যেন সহিংসতা করতে পারে, সে জন্যই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের অপেক্ষায় দেশ। বুধবার হবে আলোচিত এই মামলার রায়।

এই রায়ের দিকে দৃষ্টি থাকবে বিএনপিরও। কারণ, তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু এবং খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউকও এই মামলার আসামি। এর মধ্যে তারেক, বাবর, পিণ্টুর মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

১৪ বছর আগে বীভৎস এই হামলা থেকে শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করেন দলের নেতা-কর্মীরা। তবে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নিহত হয়, আহত হয় শতাধিক নেতা-কর্মী।

এই মামলাটির বিচার নিয়ে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগে নানা শঙ্কা ছিল। কারণ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে প্রকৃত আসামিদেরকে বাঁচিয়ে জজ মিয়া নামে নিরীহ হকারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তা প্রকাশ হয়ে যায়।

আবার হামলার পর পর আলামত সংগ্রহ না করে তা নষ্ট করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইকে দেশে আমন্ত্রণ জানালেও অসহযোগিতার কারণে বিরক্তি প্রকাশ করে তারা দেশ ছাড়ে।

পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আরও দুই দফা তদন্ত হয় মামলাটির। আর এই প্রক্রিয়ায় কেটে যায় ছয় বছর। এরপর আট বছর চলে শুনানি।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, যেহেতু বিএনপির শীর্ষ নেতা এই মামলার আসামি, তাই তারা রায়কে ঘিরে নাশকতা করার চেষ্টা করতে পারে। এ জন্যই দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ তৃণমূলের নেতাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা জারি করেন।

আওয়ামী লীগ বলছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়েছে হাওয়া ভবনে তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে। তারা মনে করেন, এ মামলায় তারেক রহমানের শাস্তি হতে পারে। তাই বিএনপির দেশে সহিংসতা চালাতে পারে।

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে আমাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সতর্ক আছি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমরা সতর্ক থাকব। কোন ধরণের সহিংসতা হলে জনগণকে নিয়ে তা মোকাবেলা করব।’

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউর রহমান শফি বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি জড়িত। রায় হলে তাদের সাজা হতে পারে এটা নিশ্চিত। রায়কে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা সহিংসতা করবেন এমন আশঙ্কা থেকেই যায়। এ কারণে আগামীকাল আমাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেন, ‘কেউ যেন কোনো রকম সহিংসতা করতে না পারে এ জন্য সারাদেশের নেতা-কর্মীদেরকে আমরা সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।’

রায় নিয়ে কী প্রত্যাশা করছেন-এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, ‘রায় কী হবে, আমরা তা জানি না। তবে আমরা আশা করি এই রায় রাষ্ট্রের পক্ষে যাবে।’