চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই: নির্বাচনী প্রচারনায় আওয়ামীলীগ, কারাগার-আদালতে ব্যস্ত বিএনপি

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৯ ১৯:০৪:২৭ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৯ ২২:৩০:৩১

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশের মত চট্টগ্রাম -১ মিরসরাই আসনেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রার্থীদের তোড়জোড় চলছে। বড় দুটি দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি থেকে একাধিক প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগ থেকে গৃহায়ন ও গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় টিকেট পাওয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডে জোর লবিং ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে এগিয়ে যাচ্ছে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ। ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় একাধিক সমাবেশ করেছে দলটি। নির্বাচনকে ঘিরে গনপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গত ২৯ সেপ্টেম্বর উপজেলার ১১টি স্পটে পথসভা করেছেন। ইতমধ্যে অনেক ইউনিয়নে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। করেরহাট ইউনিয়নে সবকটি ওয়ার্ডে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা শেষ হয়েছে বলে জানান করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান গিয়াস উদ্দিন জসীম।

জানা গেছে, বিগত ১০ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব রয়েছে। সাংগঠনিকভাবেও মিরসরাইয়ে আগের চেয়ে আওয়ামীলীগ এখন বেশি শক্তিশালী। তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন বলয়ের নেতা-কর্মীদের সাথে দ্বিধা-দ্বন্ধ রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা কোনঠাসায় রয়েছে। আগামী নির্বাচনে সবাই এক হয়ে কাজ না করলে নৌকা বিজয়ী করতে বেগ পেতে হবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে মামলা-হামলায় জর্জরিত বিএনপি। উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অনেক নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অনেকে নেতা-কর্মী মামলার জামিন নেয়ার জন্য আদালতে দৌড়াচ্ছেন। গ্রেপ্তার আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক নেতা-কর্মী। বিগত কয়েক বছরে উপজেলার চিহিৃত বিএনপি-জামায়াত নেতাদের নামে ৫ থেকে ২৫টি পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারপরও বিএনপি নেতাদের দাবী নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার পর মামলা-হামলার তোয়াক্কা না করে সবাই মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

জানা গেছে, গত দেড় বছর পুলিশ ও সরকারি নেতা-কর্মীদের ভয়ে বিএনপি মিরসরাইয়ে দৃশ্যমান কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের গ্রেপ্তারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিছিল করলে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। চট্টগ্রাম শহরে উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিএনপি একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হওয়ার কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে। তবে যোগ্য নেতৃত্বে মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রামের জন্য তারা মুখিয়ে আছেন।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আওয়ামীলীগের দশ বছরের শাসনআমলে দেশে গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সমুহকে। সারাদেশের ন্যায় মিরসরাইতেও ঘুম খুনের রাজত্ব¡ কায়েম করেছে। পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। উপজেলায় ডাকাতি ও চিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে এই জনপদটি। গ্রামে গঞ্জে ইয়াবা সহ বভিন্ন মাদক দ্রব্য ছড়িয়ে দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নেশার টাকার জন্য খুন করা হয়েছে জেবি স্কুলের মেধাবী ছাত্র সাকিবকে। স্থানীয় সরকার ব্যাবস্থা বিশেষ করে,উপজেলা,পৌরসভা,ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়েছে। এই প্রতষ্ঠানগুলো এখন আর জনগনের প্রতিনিধিত্ব করে না।এগুলো এখন দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের দখলে । অর্থনৈতিক অঞ্চলের নামে মিরসরাইয়ের হাজার হাজার একর জমি বিদেশী বেনিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছে।সাধারণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জমি অধিগ্রহন করে শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিয়ে স্থানীয় জনগনকে ভুমিহীনে পরিনত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেতাকর্মিরা শত নির্যাতনের পরও মিরসরাইবাসীর কল্যানে বদ্ধপরিকর। দশ বছরের আওয়ামী অত্যাচার নির্যাতন ও ক্ষমতার অনৈতিক লোভ বিএনপি কর্মিদের আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে দশ বছরের চেপে বসা অন্যায় অত্যাচারের জবাব দেয়ার জন্য মিরসরাই বাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি গ্রহনযোগ্য অংশগ্রহন মুলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আন্দোলন করছি ।সে আন্দোলন অচিরেই বিজয়ের মুখ দেখবে।জনগন উড়াবে বিজয় নিশান ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইতমধ্যে উপজেলার ৮-১০টি ইউনিয়নে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বাকি ইউনিয়নগুলোতে কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক আর নাই করুক যথা সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তারা নির্বাচনে আসতে ভয় যাচ্ছে, কারণ মিরসরাইয়ে জনগনের কাছে বিএনপির ভোট চাওয়ার মুখ নেই। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন ২৯টি লাশ পড়েছে। গাছ লুট, মাছ লুট, বাঁশ লুট সহ সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতনের ষ্ট্রিমরোলার চালিয়েছে। এখানকার মানুষ সেই স্মৃতি আজো ভুলেনি। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে মাননীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে রেকর্ড পরিমান উন্নয়ন হয়েছে। বিগত ১০ বছরে মিরসরাইয়ে মহামায়া, ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন, বিসিক শিল্পনগরী, রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট, বিদ্যুতায়ন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ সহ ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। এখানে গড়ে উঠছে সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এই মিরসরাই একদিন সিঙ্গাপুর, মালোশিয়ায় পরিনত হবে। এখানকার জনগন নৌকা প্রতিকে ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।