চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ভারতকে চট্টগ্রামবন্দর ব্যবহারে প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৭ ১৪:০৩:০৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৭ ১৪:০৩:০৯

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারত তাদের দেশের চারটি বন্দরে পণ্য পরিবহনের কাজ শুরু করবে এ মাসেই। তাই ভারতকে ওই দুই সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে সব ধরনের কাজ প্রায় শেষ করেছে বাংলাদেশ বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সোবহান।

সাউথ এশিয়া মেরিটাইম এন্ড লজিস্টিকস ফোরামের দ্বিতীয় সম্মেলন উপলক্ষে রোববার সচিবালয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় নৌমন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন বি ইউজড অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া বিটুইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দি রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া’ চুক্তিটি খসড়ায় অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।

সচিব মো. আব্দুস সোবহান বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর সাউথ ইস্ট ইন্ডিয়ায় মালামাল পরিবহনের জন্য আমাদের সক্ষমতার কোনো সমস্যা নেই। আমরা প্রতিবছর চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর মিলে প্রায় চার হাজারের বেশি বিদেশি জাহাজ গ্রহণ করি। এর মধ্যে ৬০টি জাহাজ বাংলাদেশের। বাকি সব জাহাজই বিদেশি। কাজেই ইন্ডিয়া থেকে যেসব জাহাজ আমাদের এসব পোর্টে আসবে তার সব জাহাজ হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।

সচিব বলেন, আমাদের পোর্ট পলিসিই হচ্ছে বেশি বেশি বিদেশি জাহাজ রিসিভ করা। যত বেশি জাহাজ হ্যান্ডেল করবো তত বেশি রেভিনিউ হবে। এমনকি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট বাড়বে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে ভারতের জাহাজ আসার পর সাউথ ইস্ট ইন্ডিয়ায় যে মালামাল বহন করবে তা যাবে বাংলাদেশি গাড়িতে। অর্থাৎ বাংলাদেশি ট্রাক ব্যবহার করলে আমরা এখান থেকে নানা ধরনের সুবিধা পাবো।

আব্দুস সোবহান বলেন, এতে কোনো ধরনের ভৌত কোনো অসুবিধা হবে না। ইতোমধ্যে আমরা পোর্ট এক্সপানশনের সব ধরনের কাজ করেছি। চট্টগ্রাম পোর্টে গ্রে টারমিনাল হচ্ছে যেখানে আরও ১৩টি জেটি যুক্ত হবে। এ টার্মিনালটিতে আরও অনেক বেশি বিনিয়োগ বাড়বে।

এ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ভারতের সঙ্গে এ উপলক্ষে যে রোড কানেকটিভিটির কাজ চলছে তার জন্য ডিটেইল মাস্টার প্লান হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্লান বাস্তবায়নে বুয়েট নিয়মিতভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ সেটি হলো ড্রেজিংয়েল কাজ। ২৫ কিলোমিটার ড্রেজিং হবে চ্যানেলের ভেতরে, আর ৪৫ কিলোমিটার ড্রেজিং হবে সমুদ্রের ভেতরে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের ভেতরে ড্রেজিং করার অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। এজন্য টেশনিক্যাল ফিনানসিয়াল কাজ আমরা ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। এ কাজে আমাদের মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটিকে সহযোগিতার জন্য আমরা রাহান নামে নেদারল্যান্ডের একটি কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করছি। এ কোম্পানিটির সমুদ্র ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এই পোর্টগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে ৮৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচ ধরা হয়েছে। তবে পরে এর পরিমাণ বাড়বে।

সচিব বলেন, এছাড়াও মংলা বন্দরে মাটি ভরাট করে টার্মিনাল নির্মাণের যে কাজ সেটিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। সেখানে শেখ হাসিনা রোডসহ সব ধরনের রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখানে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সম্মানজনকভাবে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কারিগরি ট্রেইনিং দেওয়া হচ্ছে যাতে করে তারা নিজেরা নিজেদের জীবন যাপনে ভূমিকা রাখতে পারে।