চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

কে হচ্ছেন লাভবান

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৭ ১০:৪৮:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৭ ১৬:২০:৫৭

সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী) ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের বাকবিতণ্ডা আগ্রহ উদ্দীপক হয়ে উঠেছে।

বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে জামায়াতকে দূরে রাখা এবং জামায়াত ছাড়ার ব্যাপারে বিএনপিকে শর্ত দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি।

বিভিন্ন সভায় বক্তৃতা ও গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বি. চৌধুরীকে তুলোধুনা করে ছেড়েছেন অলি আহমেদ। এ নিয়ে রীতিমতো বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন বি চৌধুরীও।

রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অলি আহমেদের বক্তব্য অকাট্য ও গুরুত্বপূর্ণ। দুজনেই বিএনপির এক সময়ের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন।

কিন্তু চলমান বাকবিতণ্ডায় কে বেশি লাভবান হচ্ছেন সে অঙ্ক মেলাতে পারছেন না অনেকেই।

কেউ কেউ মনে করছেন, অলি আহমেদ সরকারকে সুবিধা দিতেই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন। জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তার বিশেষ মিশন রয়েছে। এমনকি নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য হিসেবে অলি আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায় জাতীয় ঐক্য ও বি. চৌধুরীর বিরোধিতা করে তিনি সরকারের আনুকূল্য পেতে চান।

আবার কেউ কেউ বলছেন, অলি আহমেদ সব সময়ই স্পষ্টবাদী। স্পষ্টবাদী বক্তব্যের কারণে তিনি বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অপছন্দের তালিকায় পড়ে গিয়েছিলেন। তার জের ধরে শেষ পর্যন্ত তাকে বিএনপি ছাড়তে হয়েছে।

অথচ বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিলেন অলি আহমেদ। একইভাবে ছিলেন ডা. বি. চৌধুরীও। দীর্ঘদিন তারা একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন। ১৯৯১-এর বিএনপির মন্ত্রিসভায় ছিলেন দুজনেই। ২০০১-এর বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে মন্ত্রিসভায় অলির ঠাঁই না হলেও ঠাঁই হয়েছিল বি. চৌধুরীর। সে মন্ত্রিসভা থেকে নিয়ে বি. চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতিও করেছিল বিএনপি।

অলি আহমেদ প্রশ্ন তুলেছেন, বি. চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন তখন জামায়াতের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তখন তিনি জামায়াতের বিরোধিতা করেননি, এখন কেন করছেন?

বি. চৌধুরীর সমালোচনা করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর অলি বলেছেন, বি. চৌধুরী যখন বিএনপির মহাসচিব ছিলেন তখন মুসলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জয়পুরহাটের আব্দুল আলীম (প্রয়াত), যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তিনি ছিলেন রেলমন্ত্রী। সে সময় তাদের ব্যাপারে এক ধরনের অবস্থান আর এখন কেন ভিন্ন? এর অর্থ কি মাংস হালাল আর ঝোল হারাম? এটা কেন?

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, দোকানদারের কাছে যারা পরাজিত, তাদের মাহাথির মোহাম্মদ বানান কেন? ৯০ বছরের বুড়োকে ৮০ বছর বানানো যাবে কিন্তু ৫০ বছর বানানো যাবে না। মাহাথির মোহাম্মদ আধুনিক মালয়েশিয়ার নির্মাতা। যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই।

এ সময় তিনি বি. চৌধুরীর ছেলে ও এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা তো ছেলের কাছে বিক্রি হয়ে যাই। যারা আজকে জাতীয় ঐক্য করছেন তাদের অনেকের ছেলের ভিওআইপি ব্যবসা আছে। ভিওআইপি ব্যবসা কার থেকে নিয়েছে? আওয়ামী লীগের কাছ থেকে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে।

এভাবেই অলি তুলোধুনা করেছেন বি. চৌধুরীর। গত শুক্রবার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে মন্তব্য করতে গিয়ে অলি আহমেদ ও বি. চৌধুরী পাল্টাপাল্টি কথা বলেছেন।

অলি বলেছেন, ২০০১ সালে জামায়াতের দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বি. চৌধুরী মন্ত্রিসভায় ছিলেন। জামায়াতের এমপিদের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। বঙ্গভবনে ওই দুই মন্ত্রীসহ জামায়াত নেতাদের দাওয়াত করে খাওয়াতেন। জামায়াতের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়েছেন বহুবার।

পাল্টা জবাবে অনেক বক্তব্যই অস্বীকার করেছেন বি. চৌধুরী। তবে তিনি জামায়াতের সঙ্গে থাকার বিষয়টি তার জীবনের বড় ভুল বলেও স্বীকার করেছেন।