চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা তাড়িয়ে এবার সেইন্ট মার্টিনকে নিজেদের বলে দাবি করলো মিয়ানমার

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৬ ২০:২৪:১২ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৬ ২০:২৪:১২

সেইন্ট মার্টিনকে মিয়ানমারের অংশ হিসেবে দেখানোর এ অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

মিয়ানমার দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যা চালিয়ে দেশ থেকে বিতাড়নের পর এবার সেইন্ট মার্টিন দ্বীপকে নিজেদের বলে দাবি করলো। মিয়ানমারের সরকারি দুটি ওয়েবসাইটে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপকে নিজেদের অংশে দেখিয়ে ছবি প্রকাশ করা হয়।

সেইন্ট মার্টিনকে মিয়ানমারের অংশ হিসেবে দেখানোর এ অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা।

শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমুদ্র বিষয়ক ইউনিট প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খুরশেদ আলম এই ঘটনার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ লুইন উকে তলব করেন।

তবে এক কূটনীতিক ইউএনবিকে জানান, মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন সেইন্ট মার্টিনকে তাদের অঞ্চল হিসেবে দেখানো ভুল ছিল।

ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে ১৯৩৭ সালে স্বাধীন হবার পর থেকে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় সেইন্ট মার্টিন দ্বীপটি কখনই মিয়ানমারের অংশ ছিল না।

১৯৩৭ এ যখন মিয়ানমার আলাদা হয়, তখনও সেইন্ট মার্টিন ব্রিটিশ-ভারতেরই অংশ ছিল বলে জানান এক সরকারি কর্মকর্তা। “একটি পরিষ্কার রেখা টানা হয় এর মাঝে”, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে সেইন্ট মার্টিন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের পর এই দ্বীপ স্বাধীন বাংলাদেশের অংশ হয়ে যায়।

১৯৭৪’এ স্বাক্ষরিত একটি চুক্তিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয় এই দ্বীপটি বাংলাদেশের অংশ।

তিনি আরও জানান, এমনকি ২০১৭ সালেসমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক সীমানা বিষয়ক বিরোধে জয় লাভ করে, তখনও এটা পরিষ্কারভাবে বলা ছিল যে এই দ্বীপ বাংলাদেশের মানচিত্রের অংশ।

“এতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু মিয়ানমার কিভাবে সেইন্ট মার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করতে পারল?এটি নিঃসন্দেহে ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে”, বলেন এই কর্মকর্তা।

এক কূটনীতিক সূত্রে জানা যায়, সচিব খুরশেদ আলম মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সাথে প্রায় এক ঘণ্টার একটি সভা করেন এবং সংশ্লিষ্ট নথি হস্তান্তর করে ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

মিয়ানমার পক্ষ সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে কেন জরিপ চালিয়েছে জানতে চেয়ে খুরশেদ আলম মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বলেন, “আপনারা এটা করতে পারেন না। কিসের ভিত্তিতে আপনারা এটা করেছেন?”

কেন তলব করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কোনো কথা বলেননি।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি নিয়ে তার সরকারের সাথে আলোচনা এবং ঢাকার উদ্বেগ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এর আগে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ছবিকে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ নেয়ার দৃশ্য বলে দাবি করে প্রচার করেছিল মিয়ানমার। তবে পরবর্তীতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এই ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে।