চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯

অস্বাস্থ্যকর খাবারে ভরে গেছে চট্টগ্রামের আদালত পাড়া

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০২ ২৩:১৭:৪৯ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৩ ১০:৪০:১২

জেলা প্রশাসনের দেয়াল ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা

আখতার হোসাইন

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা গুলো জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন, বন্দর, রেলওয়ে ও জেলা পরিষদ সময়ে অসময়ে উচ্ছেদ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও স্বয়ং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেঁষে নতুন আদালত ভবনের সামনে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিত অবৈধ স্থাপনা। যা কখনো উচ্ছেদ হচ্ছে না। এসব অবৈধ স্থাপনা গুলোতে নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বিক্রি হলেও দেখার কেউ নেই এমন মন্তব্য করেছে আদালত পাড়ায় আসা লোকজন।

চট্টগ্রাম নগরীর কোর্টহিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় স্থানান্তরের পর থেকে এসব দোকান আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন একজন আইনজীবি। দোকান গুলো বাঁশি খাবার, অস্বস্থ্যকর খাবার গুলো খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

এই অবৈধ দোকান গুলোর খাবারে দেখা গেছে মশা, মাছির উৎপাত আবার ধোলাবালিও কম পড়েনি। একটি দোকনে দেখা গেছে চায়ের কাপের নিচে ময়লা ভরে গেছে চা খাওয়ার পর এই ময়লার কথা দোকানীকে বলার সাথে সাথে তিনি গরম হয়ে তাকে লাঞ্চিত করে। প্রতিদিন তাদের কাছে হাজারো মানুষ খেতে গিয়ে লাঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিদিন বিভিন্ন মামলা মোকাদ্দমার কাজে আসা লোকজন নিরুপায় হয়ে এই সব অস্বাস্থ্যকর খাবার গুলো খেতে বাধ্য হচ্ছে। দেখা গেছে, চোলা ভাজা, পিয়াজু, চা, বিভিন্ন রকমের নাস্তা গুলোর উপর কোন পর্দা না থাকায় এগুলোর উপর মাছি ভ্যান ভ্যান করছে।

এ ব্যাপারে তাদেরকে বললে তারা উল্টো গ্রহককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। কোর্টে হাজিরা দিতে আসা আবদুল করীম বলেন, তারা পুলিশের সাথে সুসম্পর্ক রাখে, পুলিশকে খাওয়ায় এবং অনেকে এদের কাছ থেকে টাকা নেয় তাই তারা আদালত পাড়ায় আশা অসহায় লোকজনকে পাত্তায় দেয় না। বিভিন্ন মামলার কারণে প্রতি মাসে তিনি আদালতে আসেন এবং এসব দোকানে বসলে কয়েকটি ঘটনা চোকে পড়ে।

প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে উঠা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে প্রতিদিন কোর্ট হিলে আইনী লড়াইয়ে আসা হাজার হাজার মানুষ বিড়ম্বনায় স্বীকার হচ্ছে। আইনজীবিদের গাড়ী, আসামীর গাড়ী ও গাড়ী নিয়ে আদালতে আশা মানুষ গুলো বেকায়দায় পড়ে।

নতুন আদালত ভবনের সামনে বিশাল পার্কিংসহ গাড়ী চলাচলের প্রসস্ত রাস্তা থাকা সত্বেও এই সব রাস্তা এখন অবৈধ দোকানীদের দখলে। দুটি গাড়ী ক্রস করতে গেলেই বেকায়দান পড়ে চালকরা। ফলে প্রতিদিন অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানদারদের সাথে হচ্ছে ঝগড়া ঝাটি।

এডভোকেট হামিদ উদ্দিন বলেন, এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে আমরাও গাড়ী নিয়ে বেকায়দায় পড়ি। চলাচলের ক্ষেত্রেও অনেক সময় ডিস্টাব হচ্ছে। তিনি বলেন নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছে হলেও প্রশাসনের সামনেই এসব অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে কেন তা বোধগাম্য নয়।