চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

বাড়তি টাকা না দেওয়ায় চালু হচ্ছে না সংযোগ’

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০১ ১৮:৫৫:৫২ || আপডেট: ২০১৮-১০-০১ ১৮:৫৫:৫২

মিরসরাই প্রতিনিধি

মিরসরাইয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও ঘুষ দাবি এবং সংযোগ প্রদানে টালবাহানার অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগীরা। মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিন অলিনগর গ্রামের অধিবাসীরা সোমবার (০১অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ ও করেরহাট বনবিভাগের কর্মকর্তাদের এজন্য দায়ী করছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে জানান, সরকারি সকল নিয়ম মেনে দক্ষিন অলিনগর গ্রামের প্রায় ১৫০ টি’র অধিক পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে। এসময় যাবতীয় সকল কাগজ-পত্র ও তথ্য প্রমানাধি সংযুক্ত করা হয় এবং প্রতিটি মিটারের ৪৫০ টাকা এবং খাস জমির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আরো ৫০০ টাকা হারে বর্ধিত ফি জমা দেওয়া হয়। এছাড়াও দ্রুত সংযোগ প্রদানের কথা বলে মিটার প্রতি আরো অতিরিক্ত নগদ ৭০০ টাকা হারে গ্রামবাসী থেকে আদায় করে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এরপর বিদ্যুৎতায়নের লক্ষ্যে খুঁটি (ফিলার), ট্রান্সফর্মার স্থাপন, তার টানানো, মিটার স্থাপন কাজ সম্পন্ন করে। প্রতিটি ঘরে অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে ওয়েরিং কাজও সম্পন্ন করে গ্রাহকরা। এরপর বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায় দু’একদিনের মধ্যে সংযোগ প্রদান করা হবে।

কিন্তু পরে মিরসরাই পল্লী বিদ্যুত অফিসের মিটার ইনপেক্টর সাত্তার সরেজমিন পরিদর্শনে এসে গ্রাহকদের কাছে বাড়তি টাকা দাবি করে লাইন চালু করতে টালবাহানা শুরু করে।

পরবর্তীতে পল্লী বিদ্যুত সমিতি-৩ এর জিএম (সীতাকুন্ড অফিস), তৎকালীন ডিজিএম (মিরসরাই অফিস) এমাজ উদ্দিন সরদার, ইঞ্জিনিয়ার রুপম বাবু সরেজমিন পরিদর্শনে এসে সংযোগ চালু করা যাবেনা বলে জানায়। কারন হিসেবে তারা জানায় বনবিভাগ এই জমি রিজার্ভ ফরেস্ট দাবি করে আর.ই.বি ঢাকা আফিসে একটি অভিযোগ করেছে। প্রকৃতপক্ষে আবেদনকৃত মিটারগুলো পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজার বিএস- ৩১১৩ ও ৩৯৪৬ এর অভ্যন্তরে, যা রিজার্ভ ফরেষ্টের আওতার বাইরে। সংরক্ষিত বনায়ন থেকে উভয় দাগের দুরত্ব এক কিলোমিটারেরও বেশি।

ভুক্তভোগীরা বন বিভাগের করেরহাট রেঞ্জ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে সংযোগ চালু করলে তাদের আপত্তি নেই বলে জানায়। বর্তমানে তবে সম্প্রতি উভয় কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে ‘টাকা না দিলে সংযোগটি চালু করা সম্ভব হবেনা’ জানিয়ে বাড়তি টাকা দাবি করে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুষছেন।

প্রয়োজনীয় সব উপকরন স্থাপনের পরও সংযোগ চালু না করায় স্থাপিত ট্রান্সফর্মার, তার, মিটার, খুঁটি প্রভৃতি চুরি হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকায় বর্তমানে গ্রামবাসীকে পালা করে রাত জেগে এসব পাহারা দিতে হচ্ছে।

অপরদিকে, আমাদের । যা বর্তমান আবদি সরকারের খাস জমির (হিসেবে নিদিষ্ট আছে) আওতাভুক্ত। উপজেলা ভূমি অফিস থেকেও এসব দাগ খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত আছে। তদুপরি, স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় সাংসাদ ও মন্ত্রীর সুপারিশের প্রেক্ষিতে এই খাস জমিগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে বন্দোবস্তী দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। বস্তুত: বনভিবাগের রিজার্ভ ফরেস্ট এর নির্ধারিত এলাকা আমাদের এই দুই দাগ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অর্থ্যাৎ পাহাড়ের অভ্যন্তরে (যা সংযুক্ত সিট দেখেও প্রমান পাওয়া যায়)।

পরবর্তীতে, পল্লী বিদ্যুত-৩ এর ডিজিএম, এজিএম ইঞ্জিনিয়ার দুই দফায় সরেজমিন পরিদর্শন এবং অন্যান্য উদ্ধতন কর্মকর্তারা একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শনে এলেও বর্তমান আবদি আমাদের সংযোগটি চালু করা হয়নি। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে এসে উভয় বিভাগের কর্মকর্তারা লাইন চালু না হওয়ার কারন হিসেবে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুষছেন। এছাড়া ভিবিন্ন সময় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বনভিবাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে, এই জায়গা নিয়ে তাদের কোন দাবি নেই এমনটিও জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, উল্লেখিত দুই কর্তৃপক্ষকেই বাদ দিয়ে স্থানীয় ভূমি অফিস বা তৎ সংশ্লিষ্ট তৃতীয় কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা সম্ভব হলে দ্রুততার সাথে এর সত্যতা বেরিয়ে আসবে।

গ্রামবাসিদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মিরসরাই জোনাল অফিসের সদ্য যোগ দেয়া ডিজিএম গোলাম মোস্তফার সাথে কথা বলতে একাধিকবার ফোনে চেষ্টা করে হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।