চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

‘সম্পাদক পরিষদের আপত্তি মন্ত্রিসভায় তোলা হবে’

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-৩০ ১৭:২৮:২১ || আপডেট: ২০১৮-০৯-৩০ ১৮:০৯:৩৩

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি বলে জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। আলোচনার জন্য এগুলো আবারো মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।

এই বৈঠকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রী ছাড়াও এক উপদেষ্টা ছিলেন। তারা হলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, কালেরকণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন’র সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকাল’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবুয়াল হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইনটি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে পাস হয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রপতি এখনো এতে স্বাক্ষর করেননি। তাই এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী ৩ অক্টোবরের পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনটি উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমতি সাপেক্ষে এসব বিষয়ে সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। আলোচনার মাধ্যমেই জটিলতা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানান, বৈঠকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা সম্পর্কে আপত্তি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। এসব ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এসব ধারার বিরুদ্ধে আপত্তি এবং কিছু সুপারিশ সরকারের তিন মন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আইনটির ২১ নম্বর ধারা সম্পর্কেও আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। তবে সরকারের ব্যাখ্যায় আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি আইন হোক তা আমরা চাই। কিন্তু, তা যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি না করে। সংসদে পাস হওয়া এ আইনটি বাতিল নয় আমরা সংশোধন চাই। সে কারণে এই আইনের বিষয়ে আমাদের আপত্তিগুলো লিখিত আকারে দিয়েছি। আইনটি সংসদে পাস হওয়ার আগেও আমরা মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বসেছিলাম এবং অনেক পথ এগিয়েছিলাম। সংসদীয় কমিটির সঙ্গে দু’দফা আমরা বসেছি। তবে কথা থাকলেও তৃতীয় দফা আর বসা হয়নি। সংসদীয় কমিটি আমাদের সঙ্গে তৃতীয় দফা না বসে কেন আইনটি সংসদে পাস করেছে, সেটা আমরা জানি না।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘তবে তথ্যমন্ত্রী আবারো আইনটির বিষয়ে সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বসার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

উল্লেখ্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন সাংবাদিকরা। বিশেষ করে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে সম্পাদক পরিষদ। এসব আপত্তির সুরাহা না করেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ওই আইনটি পাস করা হয়।