চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘চাঁদার দাবিতে’ এক সপ্তাহে ৭ জনকে অপহরণের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৯ ১১:২০:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৯ ১১:২০:৩৩

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-এমএন লারমা) বিরুদ্ধে চাঁদারা দাবিতে এক সপ্তাহে ৭ জনকে অপহরণের অভিযোগ করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। শুক্রবার ইফপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংগঠক শান্তিদেব চাকমা।

এতে তিনি চাঁদার দাবিতে গত এক সপ্তাহে সাত গ্রামবাসীকে অপহরণ, নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসনের ছত্রছায়ায় সংস্কারবাদী (জনসংহতি সমিতি-এনএম লারমা) সন্ত্রাসীরা অবাধে ও নির্বিঘ্নে এই সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, কাজেই প্রশাসনকেই এর দায়ভার নিতে হবে।’

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিধান চাকমার নেতৃত্বে জেএসএস সংস্কারবাদী সন্ত্রাসীরা দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শৈব রঞ্জন চাকমার ছেলে মোহন লাল চাকমা নামে এক ব্যক্তিকে দীঘিনালা সদরে ডেকে সেখান থেকে অপহরণ করে মেরুং এর মনেরমানুষ এলাকায় নিয়ে যায়। পরে ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

‘গত ২২ সেপ্টেম্বর জেএসএস সংস্কারবাদী সন্ত্রাসীরা দীঘিনালার ২ নং বোয়ালখালি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের কাট্টলী মুরোগ্রামের বাসিন্দা রতন কুমার চাকমার ছেলে কালা চাকমাকে (৩৫) অপহরণ করে। পরে তাকে ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়।’অভিযোগ ইউপিডিএফের।

বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘গত ২১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দুপুর ১টায় জেএসএস সংস্কারবাদীরা খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের মায়াফাপাড়া থেকে তীর্থ মোহন ত্রিপুরার ছেলে চন্দন ত্রিপুরাকে (৪৫) নিজ বাড়ি থেকে ‘অস্ত্রের মুখে’ অপহরণ করে। অপহরণের পর তার মুক্তির জন্য পরিবারের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু যথা সময়ে ধার্যকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।’

‘এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির নানিয়াচর বাজার থেকে দক্ষিণ মরাচেঙ্গী গ্রামের তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে জেএসএস সংস্কারবাদীরা। অপহৃতরা হলেন- প্রভাত চন্দ্র চাকমার ছেলে জয়ধন চাকমা (৩৫), বড়পেদাচাকমার ছেলে ভাগ্যধন চাকমা (৩৮) ও মুরতি রজ্ঞন চাকমার ছেলে অনাময় চাকমা (২৭)। ’

তাদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

অন্যদিকে, ‘গত ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে রূপকারী ইউনিয়নের গলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা নোয়ারাম চাকমাকে অপহরণ করা হয়। সংস্কারবাদীরা তাকে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতনের পর ছেড়ে দেয়।’ জানায় ইউপিডিএফ।

বিবৃতিতে শান্তিদেব চাকমা গত বছরের নভেম্বর থেকে এপর্যন্ত জেএসএস (এমএন লারমা) সন্ত্রাসীরা মোট ২৬ জনকে খুন ও কমপক্ষে ৯২ জনকে অপহরণ করেছে বলে দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুন, গুম, অপহরণের রাজনীতি করি না। আর এসব ঘটনার সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘তারাই (ইউপিডিএফ) এধরণের কাজ করে আমাদের দুষছেন।’

এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবীর বলেছেন, ‘এসব ঘটনার কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’