চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

গোটা দেশ এখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্হায়

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৮ ১৮:৩৫:৫৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৮ ১৮:৩৫:৫৩

শিরোপা স্বপ্ন নিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলছে বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাট করছে টিম টাইগার্স। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে টাইগার ভক্তদের মধ্যে। টিভি পর্দায় কিংবা এফএম রেডিওতে কান পেতে খেলার ধারাভাষ্য শুনছে সারা বাংলাদেশ। অফিসে, বাড়িতে, গাড়িতে, ক্যাম্পাসে কিংবা রাস্তার মোড়ে মোড়ে সবার চোখ টিভি পর্দায়। ভক্তরা চান এবারের এশিয়া কাপের শিরোপা যেন ঠাঁই পাই মাশরাফির বিশ্বস্ত হাতে।

এদিকে সকাল থেকেই বাংলাদেশের খেলা নিয়ে সরগরম ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সেখানে খেলা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস শেয়ার করেছে টাইগার ভক্তরা। সেসব স্ট্যাটাসে রয়েছে ভালোবাসা, আবেগ এবং প্রার্থনার ছোঁয়া। কেউ কেই সাকিবের ইনজুরি চিন্তিত। সাকিবের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন সাকিবভক্তরা। একই ঘটনা ঘটেছে ড্যাশিং ওপেনার তামিমের জন্যও। তবে আশঙ্কা ছিল মুশফিকের খেলা নিয়ে। কিন্তু টাইগার ভক্তদের জন্য ভালো খবর হলো আজকে মুশফিক খেলছেন।

আজকের খেলা নিয়ে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে চট্টগ্রামে। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, এটা মাশরাফির শেষ এশিয়া কাপ। তাই আমরা চাইছি এবারের এশিয়া কাপটা মাশরাফির হাতেই উঠুক।

রিপন নামের অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দারুণভাবে উত্তেজিত। বাংলাদেশ আজ ভালো খেলে জিতুক। এই জয়টা আমাদের প্রযোজন। অন্তত সাকিব ও তামিমের জন্য হলেও আমাদের জিততে হবে।

উল্লেখ্য, এদিন টস হেরে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রহিত শর্মা। এ নিয়ে তৃতীয়বার কোনও ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। এশিয়ার নতুন শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের উত্থানের পর এই দ্বৈরথ এখন এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। তাই যেকোনও দলের চেয়ে ভারতকে হারানো অন্যরকম এক তৃপ্তি দেয় এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ মানেই এখন আবেগের লড়াই। অন্য যে কারেও চেয়ে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দই এখন বেশি তৃপ্তি দেয় এদেশকে। গত এক যুগের নানান ঘটনাই যার কারণ। ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে হৃদয়ভাঙার শোককে দীর্ঘদিন পুষে রেখেছিল ভারত।

আট বছর পর সেই শোধ অন্যভাবে মেটায়, মেলবোর্নে অন্যায় আর অবিচারের মঞ্চায়ন করে। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে সে বছরই ঘরের মাটিতে প্রতিবেশিদের ডেকে এনে নাজেহাল করে বাংলাদেশ, প্রথমবার সিরিজ জিতে। এরপর থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ আর মান দু’টোই না হারানোর এক জেদ নিয়ে নামে ভারত।

২০০৯ সাল থেকে অনেকবারই শিরোপার কাছাকাছি গিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপা আর জেতা হয়নি। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানেড সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষমেশ দুই উইকেটে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই অবস্থা। পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে জিততে শেষমেশ মাত্র দুই রানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

২০১৬ সালের এশিয়া কাপেও ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি টাইগারদের। সেবার ফাইনাল ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যায় আট উইকেটে। চলতি বছর জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সিরিজে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ম্যাচের একেবারে শেষ বলে হেরে যায় বাংলাদেশ।