চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

শেখ হাসিনা ফের ক্ষমতায় আসবে, আশা বিশ্বনেতাদের

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৭ ১৪:৫৭:৫২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৭ ২২:০০:৫৬

বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রধানগণ বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের সরকার বা সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠক হচ্ছে। বুধবার শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিশ্ব নেতারা।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘সার্বিকভাবে সকলেই আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে বহাল থাকবেন।’

জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইন বৈঠকে এস্তোনিয়ান প্রেসিডেন্ট কের্স্তি কালজুলাইড, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পে গ্রান্দ্রি, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক মিস হেনরিটা ফোর, মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন স্ক্র্যানার বার্জনার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিনিধি ফেডরিকা মোঘেরিনির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এদিন জলবায়ু সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি ‘সিওপি-২৪’ বাস্তবায়ন বিষয়ে সদস্যদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দিত করে বৈঠকে তারা বলেন, আমরা আবারো আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের মাঝে পাবো।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে উনার যে ভূমিকা রোহিঙ্গা সঙ্কটের ক্ষেত্রে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে, ইন্টিগ্রেশনের ক্ষেত্রে; এই কথা চিন্তা করে তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, উনার একটা ধারাবাহিকতা থাকবে এবং তারা আশা করছেন, উনি আবার বাংলাদেশের নেতৃত্বে থাকবেন।

শহীদুল বলেন, তারা আশা প্রকাশ করেছেন, একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে ধারাবাহিকতা আছে, এটা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে বিদ্যমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা তুলে ধরে মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে দ্রুততার সঙ্গে ফেরত নেয় সেজন্য তাদের প্রতি চাপ বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বাংলাদেশে নেই, বরং মিয়ানমার সরকারকেই একই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে হবে এবং তাদের নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজের মাতৃভূমিতে ফেরত যাচ্ছে সেই সময়টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে তাদের দেখাশোনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে এ বিষয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন স্ক্রানার বার্গেনার বলেন, তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশে ও মিয়ানমার সফর করেছেন। এসময় তিনি আশা করেন, মিয়ানমারকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হবেন যেন তারা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। ক্রিস্টিন বলেন, সংকট সমাধানে তিনি আবারও বাংলাদেশ সফর করবেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার দেয়া পাঁচটি প্রস্তাবের একটি ছিল মিয়ানমারে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত নিয়োগ। আমাকে নিয়োগের মাধ্যমেই সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়।