চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

পাইলটের দক্ষতায় প্রাণ বাঁচলো ১৭১ যাত্রীর

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৬ ২২:০৯:১৮ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৭ ০৮:৩৭:১১

ফ্লাইটে ১৬৪ যাত্রী ও সাত ক্রু। সবার জীবনই ছিল তার হাতে। জরুরি অবস্থায় কক্সবাজার বিমানবন্দরের চারপাশে ঘুরেছেন আটবার। অবতরণ করতে না পেরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর প্রদক্ষিণ করেছেন আরও দুবার। ঠান্ডা মাথায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও কৌশল কাজে লাগিয়ে নিরাপদে কক্সবাজারের ফ্লাইট নামিয়েছেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে।

পাইলটের দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তায় প্রাণে বাঁচেন ১৭১ জন যাত্রী ও ক্রু। প্রচণ্ড মানসিক চাপের মুখে নিজেকে সংযত রেখে নিরাপদে বিমানের অবতরণ করানো এই হিরো পাইলটের নাম এখন সবার মুখে মুখে। তিনি ইউএস-বাংলার বিএস-১৪১ ফ্লাইটের পাইলট ক্যাপ্টেন জাকারিয়া।

বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের পথে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি। আর দুপুরের পর চট্টগ্রামের আকাশে কয়েকবার চক্কর দিয়ে হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনায় ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রানওয়ে স্পর্শ করার সাথে সাথে উড়োজাহাজটির পেছনে ছুটতে শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ীসহ উদ্ধারকারী দল। এক পর্যায়ে ফ্লাইটি রানওয়েতে থেমে গেলে বড় কোন দুর্ঘটনা ছাড়া ইমারজেন্সি ডোর দিয়ে যাত্রীরা একে এক বের হয়ে আসেন।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা জানান, উড়োজাহাজটি যখন চট্টগ্রামের আকাশে উড়ছিল তখন সেটি ক্রাস ল্যান্ডিং করে কি না, এ নিয়ে ভীত হয়ে পড়েন তারা।

তবে নোজ হুইল গিয়ার অকেজো থাকা অবস্থায় পাইলট পেছনের চাকাগুলোর ওপর ভর করে উড়োজাহাজটির অবতরণ করেন।

এ সময় বিমানটির সামনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। আগে থেকেই তথ্য জানিয়ে রাখা হয়েছিল ফায়ার সার্ভিসকে। ফলে তারাও প্রস্তুত ছিল পুরোপুরি। বাহিনীটির অন্তত পাঁচটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

জরুরি অবতরণের পর ১১ শিশুসহ ১৬৪ জন যাত্রীর মধ্যে দু’জনকে বিমান বাহিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য কয়েকজনকে বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ফ্লাইটটিতে থাকা কক্সবাজারের একজন যাত্রী ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, যাত্রীরা সবাই আতঙ্কে ছিল। যে যার আসনে লাইফভেস্ট পরে মাথা নিচু করে ছিলাম। চট্টগ্রামে বিমানটি যখন রানওয়েতে নামলো টের পাচ্ছিলাম, খুব ঘর্ষণ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে।

‘তীব্র পোড়াগন্ধ নাকে লাগছিল। এক পর্যায়ে উড়োজাহাজটির গতি থেমে গেলে দ্রুত র‌্যাফটগুলো (ইমার্জেন্সি এক্সিট) খুলে দেওয়া হলে আমরা অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উড়োজাহাজটি থেকে নেমে আসি।’

চলতি বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যুর ঘটনা মাথায় রেখে চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণের সময় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়। শাহ আমানতে অবতরণের আগে পাইলট জাকারিয়া আরো একবার নোজ হুইল নামানোর চেষ্টা করেছিলেন। সব চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে নোজ হুইল ছাড়াই চট্টগ্রামে জরুরি অবতরণ করেন তিনি।