চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

বায়োগ্যাসে আলোকিত পটিয়ার ‘তালুকদার বাড়ি’

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ২০:২৪:০৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৬ ০০:৩৪:১০

আখতার হোসাইন

একটি মাত্র গো-খামার থেকে তিন ধরনের আয় করছেন চট্টগ্রামের পটিয়ার গোবিন্দরখীল এলাকার তালুকদারবাড়ির গৃহবধু মোছাম্মৎ ফারহানা ইয়াছমিন। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ভিন্ন কিছু করার। আর বর্তমানে এ স্বপ্নেরই বাস্তবরূপ তার গো-খামার। এখান থেকে দুধ, জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তিনি তিন ধরনের আয় করছেন। বায়োগ্যাস দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুতের আলোয় অন্ধকারে থাকা বেশ কিছু পরিবার আলোকিত হয়ে এখন আনন্দিত।

ফারহানা ইয়াছমিন বলেন, নিজের জমানো টাকা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০১৬ সালের দিকে নিজস্ব মালিকানাধীন ছোট একটি খামারে ৩টি গাভি দিয়ে দুধের খামার শুরু করেছিলেন তিনি। সেই খামার ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। গাভি বেড়েছে, বেড়েছে দুধের উৎপাদনও। বর্তমানে ২৫টি গাভি তার খামারে। তা দেখে আশপাশের অনেকেই দুধের খামার শুরু করলেন। এখন খামার থেকে দুধ পাওয়ার পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্রকল্প করে গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে। অর্থাৎ একটি খামার মানে একের ভেতরে তিন, এক খামার থেকেই তিন ধরনের আয়।

পটিয়া উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ বায়োগ্যাস প্লান্ট মালিক গোবিন্দরখীলের মোহাম্মদ শফিউল আলম মনিরের স্ত্রী ফারহানা ইয়াছমিন। তিনি জীবন বিমা কপোরেশনের পটিয়া শাখার ডেভ: ম্যানেজার। ২০১৭ সালের দিকে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের পর থেকেই চলছে দিন বদলের পালা। প্রবাদে আছে, ‘খাজনার চেয়ে বাজনাই বেশী’ অর্থাৎ একটি গো-খামার থেকে উৎপন্ন দুধের চেয়েও গোবর থেকে বহুগুণ বেশি অর্থ আয় করা সম্ভব। ফারহানা জানান, নিজের একান্ত প্রচেস্টায় ওই গো-খামার গড়ে তোলার পর সেখানে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে স্থাপন করা হয় বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। যেখান থেকে উৎপন্ন হচ্ছে বায়োগ্যাস (মিথাইল গ্যাস)। বায়োগ্যাস প্লান্টে উৎপন্ন মিথাইল বায়োগ্যাসে চলছে পারিবারিক রান্নাবান্নার কাজ। পাশাপাশি তিনি আশপাশের বিভিন্ন বাড়িঘরে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাসের সংযোগ প্রদান করছেন। গ্যাস উৎপাদনে ব্যবহৃত গোবর উর্বর জৈব সার হিসেবেও তিনি ব্যবহার করেন। এছাড়াও ফারহানার গরুর খামারে উৎপাদিত দুধ-মিষ্টি ও এ জাতীয় বিভিন্ন উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তার খামারে উৎপাদিত দুধ একটি মিষ্টির দোকানের চাহিদা মিটিয়ে উপজেলা ও পাশের বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত সরবরাহ করছেন।

জানা গেছে, ওই গো-খামারে ছোট-বড় উন্নত জাতের প্রায় ২৫টি গরু রয়েছে। এসব দুধেল গাভী থেকে দিনে প্রায় ১৮০ লিটার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ খামার থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মন তাজা গোবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই তাজা গোবর প্রথমে বায়োগ্যাস প্লান্টে পরে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

স্থানীয় জাহেদা বেগম, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সুলতানা রাজিয়া ও পারভীন আক্তার জানান, একটি গো-খামার থেকে একদিকে যেমন দুধ পাওয়া যাচ্ছে অন্যদিকে খামারের গরুর গোবর থেকে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা হচ্ছে। এছাড়াও এখান থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে টিভি, ফ্রিজ, বাল্ব জ্বালানো সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বাড়তি আয় করা যাবে অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয়ও কমে যাবে। এভাবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গো-খামার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে কল্পনাতীত ভূমিকা রাখছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া রূপালী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার হাজী নুরুল আলম জানান, বায়োগ্যাস ব্যবহার করায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না। বড় কথা, এ প্লান্টে ব্যবহার করা গোবর থেকে প্রাকৃতিক সার তৈরি করা হচ্ছে।