চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

‘জীবিকার তাগিদে থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফিরলো ওরা’

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৫ ১৮:৩৬:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ২১:২৬:০৬

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

জীবিকার তাগিদে প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে ঘর থেকে বের হয়েছেন ৪ সিএনজি অটোরিক্সা চালক। রুটি রোজগারের একমাত্র অবলম্বনটি ধুয়ে-মুছে ষ্ট্যান্ডে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। কিছু বুঝে উঠার আগেই হটাৎ একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের উপরে উঠে যায়। পাচঁটি সিএনজি ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে।

এরপর ট্রাকে নিচ থেকে উদ্ধার করা হলো ৪টি লাশ। মুহর্তে ভেঙ্গে গেল এক একটি পরিবারের স্বপ্ন। কোথায় যাবে তাদের সংসার? কিভাবে চলবে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা এই প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে সবার মাথায়। এক গ্রামের ৩ সিএনজি চালক এভাবে একসাথে চলে যাবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার।

মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার আছরের নামাজের পরে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।

ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলে নিহত হন সিএনজি চালক উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শাহ আলম (৫০), দিদারুল আলম (৩৫), মিরসরাই সদর ইউনিয়নের গড়িয়াইশ গ্রামের মোঃ নবীর ছেলে কামরুল ইসলাম (৪৫), সিএনজি-অটোরিক্সা যাত্রী উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের জমাদার গ্রামের মোঃ মহিউদ্দিন (৬০)। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) নেওয়ার সময় পথে মারা যান আরেক চালক দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মোশাররফ হোসেন (২৫)।

এসময় আহত হন দুর্গাপুর ইউনিয়নের সিএনজি-অটোরিক্সা চালক মোঃ লিটন (২৮), মোঃ সোহেল (২৪), মোঃ নবী (২৮), ট্রাক চালক খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার খাগড়াবিল গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে রবিউল হক শাহীন (২২)। শাহীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জোরারগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।