চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর তিন সুপারিশ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৪ ২৩:০০:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ১৬:০৭:২০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রথম সুপারিশেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও চর্চার বিলোপ চেয়েছেন।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট মূল থেকে সমাধান করার লক্ষ্যে সোমবার জাতিসংঘে তিনটি সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রথম সুপারিশেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও চর্চার বিলোপ চেয়েছেন।

ইউএনবি-এর বরাতে জানা গেছে, জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সংস্থার মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘হাই লেভেল ইভেন্ট অন দ্য গ্লোবাল কমপেক্ট অন রিফিউজি: এ মডেল ফর গ্রেটার সলিডারিটি অ্যান্ড কোঅপারেশ’-এ তিনি এসব সুপারিশ প্রস্তাব করেন।

প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সুপারিশ হলো, মিয়ানমারকে অবশ্যই বিশ্বাস তৈরি, সুরক্ষা ও অধিকারের নিশ্চয়তা এবং সব রোহিঙ্গার জন্য নাগরিকত্বের পথ সৃষ্টির মাধ্যমে সহায়ক পরিবেশ গঠন করতে হবে। সব বেসামরিক ব্যক্তিদের রক্ষায় যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে মিয়ানমারের ভেতর ‘সেফ জোন’ তৈরি করতে হবে।

আর প্রধানমন্ত্রী তৃতীয় সুপারিশে জানান, বিশেষ করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশগুলোর আলোকে জবাবদিহি ও বিচারের ব্যবস্থা করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ রোধ করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ স্বল্পতম সময়ে জোর করে বিতাড়িত ১১ লাখের অধিক মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত রোহিঙ্গার মুখোমুখি। তাদের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিজ বাড়ি থেকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, যেখানে তারা কয়েশ বছর ধরে বসবাস করে আসছিল।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করছি। কিন্তু সমস্যার বিশালতা আমাদের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা ছয় হাজার একরের অধিক ভূমি বরাদ্দ দিয়েছি।”

রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ, অর্থনীতি ও সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আন্তর্জাতিক অংশীদার, বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের সাহায্য করছে।’

তবে ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাতিসংঘের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাঝে মাত্র ৩৩ শতাংশ তহবিলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়াও তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যার উৎপত্তি হয়েছে মিয়ানমারে এবং সমাধান সেখানেই খুঁজে পেতে হবে। ‘দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে আমরা সীমান্ত খুলে দিয়েছি এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। এর মাধ্যমে আমরা শুধু জীবন বাঁচাইনি, সেই সঙ্গে এই সংকট আমাদের সীমান্তের মধ্যে ধারণ করে পুরো অঞ্চলটিকে স্থিতিশীল করেছি।”

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজগৃহে নিরাপদ ও সম্মানের সাথে প্রত্যাবাসন দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই সঙ্গে জানান, ‘তাদের ফেরার বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকায় বাংলাদেশ তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে।’

ভূমির অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত প্রভাবের বিষয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “রোহিঙ্গাদের নতুন করে উন্নয়ন করা দ্বীপ ভাসান চরে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে তারা উন্নত জীবন ধারণের পরিবেশ ও জীবিকার সুযোগ পাবে “

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে তাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করা দরকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশকে সাহায্য করার আহবান জানান।