চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম বন্দর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল উত্তরপূর্ব ভারত

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৪ ২০:৫৪:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৫ ০৯:৪০:১৫

ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মণের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব ভারতে বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য আদান-প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে উত্তরপূর্ব ভারত।

ভারত ও আসামের উভয় অর্থমন্ত্রীই বলেছেন বন্দরগুলো খুলে দেওয়ায় ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে কারণ এর ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহণ করা যাবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীসভা নয়া দিল্লীর সাথে প্রস্তাবিত চুক্তি অনুমোদন করে যেখানে ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

চুক্তিতে বলা হয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ভারতের কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চার্জ, ফি ও কর আদায় করবে।

চারটি প্রস্তাবিত পরিবহণ রুট হচ্ছে: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোংলা বন্দর-আগরতলা ভায়া আখাউড়া; চট্টগ্রাম থেকে মোংলা-ডাউকি ভায়া তামাবিল; চট্টগ্রাম থেকে মোংলা- সুতারকান্দি ভায়া শেওলা এবং চট্টগ্রাম/মোংলা থেকে বিবেকবাজার ভায়া সিমান্তপুর।

একাধিক বিশেষজ্ঞ বলেন, চুক্তির ফলে এই অঞ্চলের মোট পরিবহণ খরচ আগের চেয়ে কমে যাবে এবং দুই দেশের পারষ্পরিক সম্পর্কও এতে দৃঢ় হবে।

উত্তরপূর্ব ভারত চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের ফলে বেশি সুবিধা পাবে।

ত্রিপুরার উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী যিষ্ণু দেববর্মণের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রিপুরাসহ উত্তরপূর্ব ভারতে বাণিজ্যের গতি বৃদ্ধি পাবে।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দৃঢ় যোগাযোগের জন্য দরকার বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করা এবং বাণিজ্য প্রসারিত করা। আগে যোগাযোগের স্বল্পতা খুবই জন্য অসুবিধাজনক ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের চট্টগ্রাম বন্দর খুলে দেওয়াটা আমাদের জন্য সমৃদ্ধির সম্ভাবনা বয়ে এনেছে।”

আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মাও বলেছেন এর ফলে দ্রুততম সময়ে উত্তরপূর্ব ভারতে পণ্য আদান-প্রধান করা যাবে এবং ওই অঞ্চলের মধ্যকার যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করবে।

ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক বললেন, ছোট ও মধ্যম আকারের শিল্পগুলো এর ফলে আরও দ্রুত প্রসারিত হবে।

“এখন পর্যন্তও উত্তরপূর্ব ভারতে বড় ধরণের উৎপাদন কার্যক্রম হয় নি। কিন্তু এর ফলে ছোট ও ক্ষুদ্র আকারের শিল্পগুলো আরও বিকশিত হতে পারবে কারণ শিল্পায়নের জন্য শক্তিশালী যোগাযোগ প্রয়োজন।”

চট্টগ্রাম বন্দর শুধু ভারতের জন্যই না, বাংলাদেশের জন্যও সুফল বয়ে আনবে বলে জানালেন টেলিগ্রাফের বিশেষ প্রতিবেদক শেখর দত্ত।

তিনি বলেন, “উত্তরপূর্ব অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহণের ফলে বাংলাদেশ বড় ধরণের রাজস্ব আদায় করবে।”

ত্রিপুরার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মতি লাল দেবনাধ জানালেন, “আগে ত্রিপুরা থেকে মুম্বাইতে পণ্য পরিবহণে ১৫-২০ দিন লেগে যেত। এখন চট্রগ্রাম বন্দর হয়ে সেক্ষেত্রে মাত্র ৩/৪ দিন লাগবে। এর ফলে পরিবহণ খরচও অনেক কমে যাবে।”

তবে মোংলা বন্দর খুলে দেওয়ার উপকারিতা নাকচ করে দিলেন দেবনাথ। কারণ ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের সাথে এই বন্দরের সরাসরি কোনও সংযোগ নেই।