চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মাল্টা চাষে স্বপ্ন দেখছেন মিরসরাইয়ের আজম

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৩ ১৬:৪৮:১৯ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২৩ ১৬:৪৮:১৯

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাড়ির পাশে অবস্থিত ১০ শতক জায়গায় শখের বসে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন মিরসরাইয়ের গোলাম মোঃ আজম। দুই বছরের মাথায় গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। এখন সেই মাল্টা বিক্রি করে আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ফলন প্রথম বছর হওয়ায় মাল্টা আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীকে বিতরণ করেছেন তিনি। মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধকরণ থেকে শুরু করে অধ্যবদি সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস। গোলাম মোঃ আজম উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বড়কমলদহ গ্রামের মৃত জালাল আহমদের পুত্র। এক সময় গাড়ি ব্যবসা, ইট ব্যবসা সহ বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলেও এখন চাষাবাদ নিয়ে পড়ে আছেন তিনি। মাল্টা চাষের পাশাপাশি বিষমুক্ত কলা চাষ করছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত ১০ শতক জায়গায় মাল্টা বাগানের সমারোহ। পাশাপাশি রয়েছে লেবু গাছ। তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। তখন তিনি বাগানে পরিচর্চা করছেন। বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই এই ব্যক্তির এখন সময় কাটে মাল্টা বাগান ও পাশে অবস্থিত কলা বাগানে।

কথা হয় আজমের সাথে। তিনি বলেন, উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান ভাই আমার পূর্ব পরিচিত। মূলত তিনি আমাকে মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আমিও নতুন কিছু করতে খুব আগ্রহী। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বাড়ির উত্তর পাশে ১০ শতক জায়গায় বারি মাল্টা-১ জাতের ১শত চারা লাগাই। একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে প্রথম বছর শাক ও পরের বছর মরিচ চাষ করেছি। গাছের চারা, সার উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার ৫০ হাজার টাকার মত খরচ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মাল্টা গাছে ফুল আসে। এখন মাল্টা পাঁকতে শুরু করেছে। সম্পুন্ন ফরমালিননমুক্ত এই মাল্টা অনেক সুস্বাদু। প্রথম বছরের ফলন হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দিয়েছি। আগামী বছর থেকে বিক্রি করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আমি মাল্টা চাষের আরো পরিধি বাড়ানোর চিন্তাও করছি। উপজেলা, জেলা ও মাল্টা প্রকল্পের বিভিন্ন কর্মকর্তা আমার বাগান পরিদর্শন করেছেন। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মদ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সহ সকলের কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, নতুন উদ্বাবিত বারি মাল্টা-১ চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় চাষিরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই জাতের মাল্টা চাষে। বারি মাল্টা লাগানোর মাত্র ২-৩ বছরের মাথায় ফলন দেয়া শুরু করে। ২০ বছর ধরে গাছগুলোতে ফলন ধরে। একটা পরিপক্ব মাল্টা গাছে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়।

মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু সুফিয়ান বলেন, আজম ভাই নতুন কিছু করতে আগ্রহী। তাই সাইট্রাস লেবু উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারিভাবে তাকে ১শ মাল্টা চারা ও চার ধরনের সার বিনামূল্যে দিয়েছি। মূলত মাল্টা চাষের প্রদশর্নী হিসেবে আমরা এই বাগান বেচে নিয়েছি। উপজেলার আরো কয়েকটি জায়গায় অনেকে মাল্টা চাষ করছে। কেউ যদি মাল্টা চাষে আগ্রহী হয় আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, মাল্টা চাষের জন্য এখানকার মাটি বেশ উপযোগী। আমরা মাল্টা চাষের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। ক্রমান্বয়ে উপজেলায় মাল্টা চাষের পরিধি বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টা চাষীদের সবসময় সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি।