চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির নামে ইভটিজিং, সা. সম্পাদকের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২০ ১৮:৪৮:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৯-২১ ২১:১২:০৭

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনসদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের বিরুদ্ধে ইভটিজিং ও নারী লাঞ্ছনার অভিযোগ এনেছেন প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ এনেছেন তারা। বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ আনেন ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা বিতর্কিত নতুন কমিটি বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন করা ছাত্রলীগের এই অংশের নেতাকর্মীরা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এম কায়সার উদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে এই ছাত্রলীগ নেতা অভিযোগ করেন, ‘ঠিক যে মুহূর্তে সবক্ষেত্রে ঐক্যের সুর, সবাই যখন কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশার অংশ হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাতের আঁধারে কমিটি ঘোষণা দেন।’

এম কায়সার আরও বলেন, ‘নতুন কমিটিতে যাকে সভাপতি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ইভটিজিং, নারী লাঞ্ছনা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অন্যদিকে যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তিনি চিহ্নিত ভূমিদস্যু। বছরখানেক আগে ভূমি দখল করতে গিয়ে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন, যা ওই সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।’

ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন, যে ত্যাগের বিনিময়ে শিবির অধ্যুষিত এই চট্টগ্রাম কলেজকে শিক্ষার্থী এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা শিবিরমুক্ত করেছে সেই প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। শিগগির এই কমিটি বাতিল করা না হলে একই দাবিতে কঠোর আন্দোলন হবে।’

এম কায়সার অভিযোগ তোলেন, ‘নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকা খাদেমুল ইসলাম দুর্জয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা পেকুয়া উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে আছেন। একই কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আবু নাঈম হাসান ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

এর আগে গত সোমবার রাতে সাবেক মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাহমুদুল করিমকে সভাপতি ও চকবাজার থানা যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত সুভাষ মল্লিক সবুজকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা দেয় নগর ছাত্রলীগ। কমিটিতে শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা কয়েকজনকে স্থান দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে এই কমিটি বাতিলের দাবিতে পরদিন ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন পদবঞ্চিতরা। একই দাবিতে বুধবার পদবঞ্চিতরা দ্বিতীয় দফায় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে অস্ত্র হাতে ফাঁকা গুলি করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম কায়সার বলেন, ‘যারা অস্ত্রধারী ছিল তারা অনুপ্রবেশকারী। আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। বৃহস্পতিবার যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। বহিরাগতরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সদস্য সুজয়মান বড়ুয়া জিতু, আবু সায়েম, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল আলম রনি, মহিউদ্দিন মাহি, মোহাম্মদ শাকিল, মিথুন মল্লিক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ের কথা বলতে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেছেন, ‘কমিটিতে স্থান না পেয়ে যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তারা এসব অভিযোগ করেছে। দিনের পর দিন কলেজে না এসে, রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে পদ-পদবী চাইলেই তো হবে না।’