চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশের উড়ন্ত শুরু

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১৬ ০১:০২:৩০ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১৬ ০১:০২:৩০

এশিয়ার ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি শ্রীলঙ্কা। তাদের এভাবেও হারানো যায়? টাইগাররা পারে বলেই দেখিয়েছে। মরুর বুকে যেন খুশির বান। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রায় দুই যুগ পর খেলতে নেমেই বাজিমাত। লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৩৭ রানের বিশাল জয় পেয়েছে স্টিভ রোডসের শিষ্যরা।

মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে একের পর আঘাত লঙ্কান শিবিরে। উইকেট যেন মুড়ি-মুটকি। কিন্তু শুরুটা ছিল বিবর্ণ।

বাংলাদেশ অধিনায়ক ইনিংসের প্রথম ওভারে দিলেন ১৩ রান। পরের ওভারেও মুস্তাফিজুর রহমানের ওভারেও চড়াও হন উপল থারাঙ্গা। মারলেন টানা দুই চার। এমন একটা পরিস্থিতি মুস্তাফিজ সামাল দিলেন মাথা ঠাণ্ডা রেখে। টানা দুই চার দেয়ার ঠিক এক বল পরেই লেগ বিফোরের ফাঁদে লঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিস। ফিরে গেলেন ব্যক্তিগত শূন্য রানে।

খরুচে প্রথম ওভারের পর মাশরাফি নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে থারাঙ্গাকে ফেরালেন বোল্ড আউট করে।

নিজের তৃতীয় ওভারে এসে আবারও দলপতি আঘাত হানলেন। এই ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেললেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে। ধনঞ্জয়া ফিরলেন শূন্য রানে।

মরুর বুকে মিরাজও যেন উইকেটের বৃষ্টি নামালেন। নিজের প্রথম ওভারেই ফেরালেন তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসা কুশল পেরেরাকে। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বাম-হাতি এই ব্যাটসম্যান বিদায় হলো ১১ রানে।

৩৮ রানে যখন ৪ উইকেট নেই ততক্ষণে আর ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদণ্ড সোজা থাকার কথা নয়। তবু চেষ্টা চালিয়ে যান লঙ্কানরা। দাসুন সানাকাকে নিয়ে অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ২২ রানের জুটি গড়েন।

দলীয় ৬০ রানের মাথায় রান আউটের কবলে পড়েন শানাকা। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। ১৬ রান করা ম্যাথুজকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ফেরান তিনি। পরের ওভারে মিরাজ তুলে নেন থিসারা পেরারার উইকেটটি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকা লঙ্কানদের খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে আসা দিলরুয়ান পেরেরা আর সুরাঙ্গা লাকমলের ২৭ রানের জুটি খানিকটা ভোগায়। তবে মুস্তাফিজ স্বস্তি দেন। ২৫ বলে ২০ রান করা লাকমলকে বিদায় করেন কাটার মাস্টার।

শেষ দিকে দিলরুয়ান পেরারা আর আমিলা আপোনসো ২৪ রানের জুটি গড়ে। ৪৪ বলে ২৯ রান করে দিলরুয়ান মোসাদ্দেক হোসেনের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন। অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের বলে ৩১ বলে ৪ রান করা আপোনসো ধরা পড়েন বদলি ফিল্ডার নাজমুল অপুর হাতে। ৩৬.২ ওভারে ১২৪ রানে অল আউট হয় চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের শিষ্যরা। এতে ১৩৭ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাশরাফির দল।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৬১ রান। ১৫০ বলে ১৪৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। জিতে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও।