চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ভুল চিকিৎসা : চট্টগ্রামে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১১ ০০:৩৪:৫০ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ১৬:৫২:৫২

চট্টগ্রামে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে সোমবার তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

পায়ে অপারেশনের জন্য চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার পিপলস হাসপাতালে ভর্তি হন আবু তালেব লিটন নামের এক যুবক। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় তিনি এখন মুমূর্ষু। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের না জানিয়ে রোগীকে ভিন্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার পিপলস হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রোগীর স্বজনরা।

অভিযুক্ত চিকিৎসকরা হলেন- আবদুল আহাদ, আর রহমান এবং তপন।

রোগী আবু তালেব লিটনের বাবা বশির আহাম্মেদ জানান, একটি দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পান তার ছেলে। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পায়ে অপারেশনের পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অপারেশন করতে দেরি হবে জেনে এক দালাল নগরীর পিপলস হাসপাতালে কম টাকায় অপারেশন করার কথা বলেন। দালালের কথামতো গত ৪ সেপ্টেম্বর পিপলস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় লিটনকে। ওই রাতেই লিটনের অপারেশন করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান পিপলস হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার সময় সবার সঙ্গেই কথা বলেছেন লিটন। মোবাইল ফোনে কথা বলে দূরের স্বজনদের কাছেও দোয়া চেয়েছেন লিটন।

অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানোর পর দুই দিন ধরেই রোগীর স্বজনরা সন্ধান পাচ্ছিলেন না লিটনের। চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার জানতে চেয়েও কোনো সদুত্তর পাননি তারা। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পান, লিটনকে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই খবর পেয়ে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে গিয়ে লিটনকে দেখতে পান তার স্বজনরা। তারা দেখেন, লিটন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে।

লিটনের ভাই মুসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, চিকিৎসক ভুল ইনজেকশন পুশ করায় আমার ভাই এখন মৃত্যুশয্যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে আমাদের না জানিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভিন্ন একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে। এখন আমার ভাই মৃত্যুর সাথে লড়ছে। এই ঘটনায় পিপলস হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ওয়ালী উদ্দিন জানান, আমরা অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্ত করে দেখছি।

পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।