চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

নিরবতাকে সরব করার দায়িত্ব সাংবাদিক সমাজের

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ২১:০৫:১৫ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ১৬:৩৯:০৪

সাংবাদিকদের সাথে সনাক-টিআইবি’র মতবিনিময় সভা

আখতার হোসাইন

‘‘দুর্নীতি বড় মানুষের অসেচতনতায় নয় বরং সচেতন মানুষের নিরবতায়” কারো যদি সৎ থাকার সদিচ্ছা থাকে তাহলে কেউই তাকে অন্যায়ের দিকে ধাবিত করতে পারেনা, তিনি সৎ ভাবেই থাকতে পারবেন। চট্টগ্রাম মহানগর সনাকের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম আজ চট্টগ্রাম মহানগরীর পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, টিআইবি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এককভাবে বাংলাদেশে সক্রিয় অবস্থানে আছে। কোন ধরণের চোখ রাঙানী টিআইবি’র কাজকে দমাতে পারেনি, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে টিআইবি বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করছে। টিআইবি সারাদেশে নাগরিক সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) তৈরি করে দেশব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করছে। যেহেতু টিআইবি’র আন্দোলন স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা পরিচালিত হয় এবং দুর্নীতির মত ব্যাপাক বিষয় নিয়ে কাজ করার মত সামর্থও টিআইবি’র যতেষ্ট নয় তাই দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে সাংবাদিক বন্ধুদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সভায় বক্তারা বলেন, এই দেশ আমাদের, একে দুর্নীতিমুক্ত করার দায়িত্ব ও আমাদেরকেই নিতে হবে। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন টিআইবি’র সহযোগিতায় সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে পিটস্টপ রেস্টেুরেন্টে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে ‘দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সনাক-টিআইবি, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও এরিয়া ম্যানেজার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় টিআই, টিআইবি ও ‘দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক উপস্থাপন করেন টিআইবি’র জাতীয় পর্ষদ সদস্য ও সনাক-টিআইবি চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার। তাঁর উপস্থাপনায় দেশপ্রেম, দুর্নীতির ক্ষতি, টিআই ও টিআইবি’র প্রতিষ্ঠা,টিআইবি’র ভিশন-মিশন, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা, বর্তমান বিবেক প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কাংখিত ফলাফল এবং দুর্নীতিবিরাধী সামাজিক আন্দোলনে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের গুরুত্ব ইত্যাদি তুলে ধরেন।

মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন সনাক সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, সনাক সদস্য প্রকৌশলী মো: দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ও সনাক সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেলোয়ার মজুমদার বলেন, টিআইবি সনাক সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষকে সাথে নিয়ে দুর্নীতির বিরোদ্ধে মানব মনে ঢেউ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে। মানব মনে ঢেউ সৃষ্টির এই কর্মে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। সনাক সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, সনাক বিভিন্ন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে সেবা দাতা ও সেবা গ্রহীতার মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্ঠা করে থাকে। টিআইবি অল্প কিছু সেক্টরে কাজ করে থাকে কিন্তু সাংবাদিকদের বিচরণ সকল সেক্টরে তাই সাংবাদিকরাই পারে দুর্নীতির বিরোদ্ধে কার্যকর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে। দির্ঘদিন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সনাক-টিআইবি কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় সেবা দাতাদের আন্তরিক ইচ্ছা থাকার পরও আবকাঠামো সহ অন্যান্য সীমাব্ধতার কারণে কাংখিত সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চলছে ১০০ শয্যার জনবলদিয়ে যার কারণে সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসারের পদ না থাকাতে উপজেলা হতে প্রেষনে চিকিৎসক এনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের প্যথলজি, চক্ষু অপারেশন থিয়েটার সহ অন্যান্য জায়গায় আধুনিক সারঞ্জাম এর অভাবে চট্টগ্রামের লোকজন চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সব সমস্যার সমাধানে সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতা কামনা করেন। সনাক সহ-সভাপতি প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, রেল, বিমান বন্দর সহ যে সকল সেক্টরে তথ্য প্রদান করার সংস্কৃতি এখনো চালু হয়নি খুব স্বল্প সময়ে ঐ সকল সেক্টরে তথ্য প্রদানের সংস্কৃতি চালু হবে। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী ও সাংবাদিক নেতা এম নাসিরুল হক প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে কিরন শর্মা, আখতার হোসাইন ও মুক্তাদির আজাদ খান প্রমুখ। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকগণ বলেন, টিআইবি বাংলাদেশে গত ২১ বছর যে সফলভাবে কাজ করছে তার প্রমান আজ দুর্নীতি হ্রাস পাওয়া। টিআইবিকে বাংলাদেশের স্বার্থে সবধরণের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়। এজন্য সাংবাদিকগন অতীতের মতো সবসময় টিআইবি’র পাশে থাকবে।