চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

মোদি বললেন, আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ১৯:১২:৩৮ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ০০:২৮:৩৫

সামনের দিনগুলোতে এ বন্ধন আরও শক্ত হবে: শেখ হাসিনা

আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার নতুন মাইলফলক রচিত হবে জানিয়ে দেশ দুটির সরকার প্রধানরা বলেছেন, সীমান্তের বেড়াজাল পেরিয়ে আরও কাছাকাছি আসবে তাদের সম্পর্ক।

সোমবার বিকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রেলওয়ের দুটি প্রকল্প এবং আন্তঃবিদ্যুৎ সংযোগ গ্রিড এইচভিডিসি (২য় ব্লক) প্রকল্পের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রতিবেশি দেশ দুটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সরাসরি এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেন শেখ হাসিনা।

এ সময় দুই দেশের সরকার প্রধান, নিজেদের অভিন্ন স্বার্থ; পারস্পরিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সৌহার্দ্যের চিত্র তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে প্রত্যাশা রাখেন সৌহার্দ্যের এ সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন: বহুবছর ধরে দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাসের সম্পর্ক আজ এক অন্য রূপ লাভ করেছে। সারাবিশ্বের জন্য যা রোল মডেল। আমি প্রতিবেশি দেশ ভারতকে আমাদের উন্নয়নে সমর্থন দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ওই সহযোগিতাকে আমরা সব সময় স্মরণ করি। এটি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আগের যেকোন সময়ের তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন: ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে আমাদের সম্পর্ক এখন মহাকাশ গবেষণা পর্যন্ত সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বাস করে সামনের দিনগুলোতে এ বন্ধন আরও শক্ত হবে।

আগামীতে ভারত থেকে আরও বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে আমাদের বিদ্যুৎ প্রযোজন। ২০৪১ সালের মধ্যে প্রতিবেশি দেশগুলো থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছি।

‘আমি প্রত্যাশা করি বাংলাদেশ-ভারত সামনের দিনগুলোতে আরও মধুর হবে। আমাদের দীর্ঘ দিনের অনেক সমস্যা সমাধান করতে সমর্থ হয়েছি। আগামীতে এ সহযোগিতার বন্ধুন অটুট থাকবে বলে বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে।’

বাংলাদেশের জনগণকে নমস্কার জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন: সম্প্রতি বিমসটেক সম্মেলনের সময় আমাদের সাক্ষাত হয়েছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার সাক্ষাত করেছি। এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা হচ্ছে।

‘আমার ভালো লাগছে। প্রতিবেশির সঙ্গে প্রতিবেশিরইতো সম্পর্কই থাকবে। এখানে প্রটোকলের প্রয়োজন নেই।’

বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে যখন বাংলাদেশে তখন বলেছিলাম ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবো। এখন আমি বিশ্বাস করি, এ মেগাওয়াট থেকে এটা গিগাওয়াটে উন্নিত হবে।

‘আজ থেকে আমরা আরও কাছে এলাম, সম্পর্ক আরও গভীর হলো বলে বক্তব্য শেষ করেন মোদি।’