চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব থেকে ইয়াবাসহ ১২ জন আটক

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১০ ১০:২৮:৪২ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১০ ১৪:০৩:০১

নগরীর রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের রান্নাঘরকে নিরাপদ মাদক সেবনের আখড়া হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল সংঘবদ্ধ একটি মাদক চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এখানে নিরাপদের ইয়াবাসহ নানা মাদক সেবন করে আসলে বিভিন্ন পেশার সাথে জডিত মাদকসেবিরা।

গোপন সুত্রে অভিযোগ পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় সিএমপির কোতোয়ালী পুলিশ সেই মাদকের আখড়ায় হানাদিয়ে আটক করেছে এক ডজন ইয়াবা সেবিকে।তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি পলিথিনের প্যাকেটে মোড়ানো ১৬৭ পিস ইয়াবা।

আটককৃতরা হলেন-সাকিব বিন রশিদ (৩২) পিতা- হারুন রশিদ, শেখর বিশ্বাস শিমুল (৫১) পিতা- তুষার কান্তি বিশ্বাস, মোঃ মুছা (৪৫) পিতা- জামাল উদ্দিন, হুমায়ুন কবির (৪৮) পিতা- মৃত ইউনুস মিয়া, মোঃ বেলাল (৩০) পিতা- সাবের আহম্মদ, সাজ্জাদুর রশিদ (৪৫) পিতা- মৃত সুলতাল আহম্মদ, পলাশ দত্ত (৫৮) পিতা- মৃত স্বপন দত্ত, জাহিদুর রহমান জুয়েল (৫০) পিতা-মৃত আব্দুর রব, সাইদুর রহমান (৪৪) পিতা- মৃত সৈয়দ হামিদুর রহমান, মোঃ শাহিন (৫০) পিতা-মতিউর রহমান, মোঃ শাহিন ভূইয়া (২৮) পিতা-আব্দুস সালাম, মোঃ রোমান (২৬) পিতা-আব্দুল মতিন।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসীন জানান, বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার এসআই তারিকুজ্জামান, এএসআই অনুপ কুমার বিশ্বাস এএসআই রুহুল আমীন ও এএসআই রনেশ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ১২ জন ইয়াবাসেবীকে আটক করেছে।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দেড় শতাধিক ইয়াবা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা অনেকটা সমিতির আদলে মাদকের এই ভ্রাম্যমান আখড়া গড়ে তুলেছে। তাদের মধ্যে সাকিব বিন রশিদ ও শেখর বিশ্বাস শিমুল বিক্রেতা হিসেবে ইয়াবা সংগ্রহ করে। বাকিরা ক্রয়কৃত সেই ইয়াবা কিনে সেবন করে। অফিসের কাজ শেষে সন্ধ্যা বেলা সবাই একসাথে জড়ো হয়। পুলিশ যেন সন্দেহ না করে সেজন্য আড্ডার ভান করে তারা মাদক সেবন করতো।

আটককৃত ১২ ইয়াবাসেবীর ছবি দিয়ে ওসি মহসীন তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন- “এরা কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকুরে, কেউবা আবার স্ব-উদ্যোগী পেশাজীবী।নাম, পেশা, ঠিকানা সবকিছুতেই ভিন্নতা থাকলেও তারা আজ সবাই আমার কাছে এসেছে অভিন্ন পরিচয়ে। ওরা সবাই মাদকসেবী! রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব এলাকা থেকে ইয়াবা সেবনের সময় হাতেনাতে ওদের ১২ জনকে আটক করেছে টিম কোতোয়ালী

জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা অনেকটা সমিতির আদলে মাদকের এই ভ্রাম্যমাণ আখড়া গড়ে তুলেছে। তাদের মধ্যে দুইজন বিক্রেতা হিসেবে ইয়াবা সংগ্রহ করে। বাকিরা ক্রয়কৃত সেই ইয়াবা কিনে সেবন করে। অফিসের কাজ শেষে সন্ধ্যা বেলা সবাই একসাথে জড়ো হয়। পুলিশ যেন সন্দেহ না করে সেজন্য আড্ডার ভান করে তারা মাদক সেবন করতো”।

এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে থানার এসআই তারিকুজ্জামান বাদী হয়ে ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১)এর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি মহসীন।