চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের ৪৫৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৯ ২৩:০২:৫৯ || আপডেট: ২০১৮-০৯-১০ ১৫:০৩:২২

পুলিশের ওপর হামলার মামলায় চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাসহ ৪৫৩ কর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। একই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে করা আরও দুটি মামলা বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। রোববার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ এই আদেশ দিয়েছেন।

মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি মো. এনামুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল আলম এবং জামায়াতের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন মহানগর (উত্তর) সভাপতি নূরুল আমিনসহ বিএনপি-জামায়াত ও তাদের সহযোগী সংগঠনের শ’খানেক শীর্ষ নেতা আসামি হিসেবে আছেন। বাকিরা বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী।

রোববার শুনানির সময় আমীর খসরু, জাফরুল, শাহাদাতসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের পক্ষে প্রায় শতাধিক আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুস সাত্তার বলেন, আসামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে বিএনপি-জামায়াতের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাদেরকে হয়রানি, আন্দোলন ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আমীর খসরুসহ শীর্ষ নেতা-কর্মীদের ১৭৫ জন পুলিশের অভিযোগপত্র দেওয়া পর্যন্ত জামিনে ছিলেন। তাই রোববার ১৭৫ জনের জামিন স্থায়ী করার জন্য আবেদন করা হয়।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, আদালত পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৪৫৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী তারিখে এটির বিচার শুরু হবে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি ট্রাইব্যুনালে ও বিস্ফোরক আইনেরটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। দুটির অভিযোগপত্র সেখানে গ্রহণ করা হবে।

এর আগে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে নগরের কাজীর দেউড়ি-সংলগ্ন নাসিমন ভবনের সামনে সমাবেশ ডেকেছিল ২০-দলীয় জোট। ওই দিন সভা চলাকালে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি হয় নেতা-কর্মীদের। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতা-কর্মীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আসলাম চৌধুরীসহ ৩০২ জনকে গ্রেফতার করে। আসামিদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এখনো কারাগারে।

এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ধারায় একটি মামলা করে নগরের কোতোয়ালী থানায়। প্রায় সাড়ে তিনবছর তদন্ত করে চলতি বছরের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের তিনটি ধারায় পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।