চট্টগ্রাম, , শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামে পর্দা উঠল দৃষ্টিনন্দন জাম্বুরি পার্কের

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৯ ০১:২৭:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৯ ১২:৩১:৩৪

বন্দর নগরীতে প্রথম উদ্যান উদ্বোধন করে সেটি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পার্কটির উদ্যোক্তা গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর আগ্রাবাদে জাম্বুরি পার্কের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকার রমনা পার্কের চেয়েও দৃষ্টিনন্দন এই পার্ক। পার্কটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব সবার। এখানে আপনারা হাঁটবেন, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এখানে বসে ধুমপান করতে পারবে না। কিংবা মাদক খাওয়া যাবে না। এখানে গোসল করবেন না; বাদাম খেয়ে খোসা ফেলবেন না। পার্ককে সুন্দর রাখতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

তিনি বলেন, পার্কটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের। রমনা পার্কে আগে সকাল বিকাল খাওয়া দাওয়া হত। বছরে ৩০টা মেলা হত। পরিবেশবাদীদের সাথে বসে সব বন্ধ করে দিয়েছি। সেখানে প্রকাশ্যে ধুমপান নিষেধ। যারা করেছে এমন ২৫০ জনকে কানে ধরে পাঁচ বার উঠাইছি বসাইছি।

জাম্বুরি পার্কের পাশে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি মাঠ করা হবে বলেও জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পার্ক আপনারা পরিষ্কার রাখবেন। করতে পারলে আরও পার্ক হবে। বায়েজিদে আরেকটা তিন একর পার্ক হবে। অক্টোবরের মধ্যে কাজ শুরু করব। ডিসি হিলেও করব।

চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আবদুল্লাহ নূর বলেন, দর্শনার্থীদের মানসিক প্রশান্তির জন্য এই পার্কে উন্মুক্ত উদ্যান এবং নির্মল বাতাসের জন্য জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। দিনের মতো রাতেও দৃষ্টিনন্দন হবে পার্কটি।

পার্কের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএইচবি অ্যান্ড নাহিয়ানের মানেজিং পার্টনার এরশাদুল হক বাবর বলেন, চট্টগ্রামে এতোবড় এলাকাজুড়ে এটিই প্রথম পার্ক। এই পার্কের নির্মাণের দায়িত্ব পেয়ে আমরা আনন্দিত। পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তুলতে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। এখানে এসে দর্শনার্থীরা ভিন্নমাত্রার আনন্দ পাবে। সেইসঙ্গে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাংসদ এম আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, চট্টগ্রাম গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দীন আহাম্মদ প্রমুখ।

৮ দশমিক ৫৫ একর জমির ওপর পার্কটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। পার্কজুড়ে লাগানো হয়েছে ওষুধিসহ ৬৫ প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য এখানে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি বড় গ্যালারি। পুরো পার্কে বসানো হয়েছে সাড়ে পাঁচ শতাধিক এলইডি লাইট। রাখা হয়েছে দু’টি পানির ফোয়ারা।

সুদীর্ঘ ওয়াকওয়ে এবং কম্পাউন্ড রোড মিলে ৮ হাজার রানিং ফুটের মাঝে ৫০ হাজার বর্গফুটের জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পার্কটি বাস্তবায়ন করেছে গণপূর্ত অধিদফতর।