চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বাড়ছে আত্মহত্যা, রহস্য কি ?

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৬ ১০:৫৯:২৬ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৬ ১০:৫৯:২৬

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

ইদানিং টেকনাফসহ সারা দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছেই। আত্মহত্যার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন হাসপাতালে ও চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হচ্ছে অনেকে। পারিবারিক ও সামাজিক টানাপড়ন, হতাশা, নৈতিক অবক্ষয়, প্রেমে ব্যর্থতা, মনোমালিন্যসহ মানসিক অশান্তির কারণে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়ার জন্য তারা আত্মহত্যার পথ বেচে নেয় বলে মনে করছেন অভিজ্ঞজনরা। এতে অনেক অভিভাবক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। চলতি সপ্তাহে টেকনাফে এক রোহিঙ্গাসহ ৩জনের আত্ম হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা নিয়ে সচেতন অভিভাবক মহলকে ভাবিয়ে তুলেছেন।

গত মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে নিজবাড়ীর পশ্চিম পাশে আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াছের ছোট ভাই আয়াত উল্লাহ(২৬), টেকনাফ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পুরাতন পল্লান পাড়ার মৃত মোঃ হোসেনের পুত্র ওসমান গণি ওরফে বাক্কায়া ও ২ সেপ্টেম্বর নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের এইচ ব্লকের এমআরসি নং ৬১১১৩, শেডনং ১২৩১/৫ এর বাসিন্দা রহমত উল্লাহর পুত্র মঞ্জুর আলম (২২) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করে।

উপর্যুপরি এসব আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও আত্মহত্যা প্রবণতা প্রতিরোধে সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না।

এদিকে টেকনাফের বাহারছড়ায় ইউপি সদস্য মোঃ ইলিয়াছের ছোট ভাই আয়াতুল্লাহ আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সাধান মানুষের মাঝে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা শুনা যাচ্ছে। অনেকের দাবী পারিবারিক কলহের জের অথবা বেকারত্বের বোঝা সইতে না পেরে আয়াতুল্লাহ এই জগন্য আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। আসলে এই আত্মহত্যার মুল রহস্য কি তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর আগে আয়াতুল্লাহর পিতা মাতার মৃত্যু হলে সে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। পরিবারের সবার বিয়ে হলেও পা প্রতিবন্ধী আয়াতুল্লাহর বিয়ে হয়নি। সে বড় ভাইয়ের পরিবারে লালন পালন হয়ে আসছিল বলে এলাকাবাসীরা জানান। তার রোজগারকৃত টাকা ও পিতা মাতার ওয়ারিশ সম্পদ নিয়েও পারিবারিকভাবে কলহ সৃষ্টি হয়ে আসছিল বলে এলাকায় গুঞ্জন রটেছে। তাই আয়াতুল্লাহর এই আত্মহত্যার রহস্য কি তা আইনশৃংখলা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলে এলাবাসীরা মনে করেন। এব্যাপারে ইউপি সদস্য মোঃ ইলিয়াছ জানান, নিহত আয়াতুল্লাহ আবদরের ছোট ভাই ছিল। পরিবারের কারো সাথে কোন ধরনের নুন্যতম মনোমালিন্য ছিলনা।

অপরদিকে সুত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার চেষ্টা করা দন্ডনীয় অপরাধ এবং তা মহাপাপও বটে। আত্মহত্যার চেষ্টা চালানোর শাস্তি সম্পর্কে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩০৯ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে বেঁচে যান, তবে দন্ডবিধি ৩০৯ ধারা অনুযায়ী ওই ব্যক্তির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা জরিমানা বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন।