চট্টগ্রাম, , বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

মিরসরাইয়ের ৩০ কিলোমিটার জুড়ে অর্ধশত লেভেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৫ ১০:২৭:০৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৫ ১৭:২৩:০৩

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের চট্টগ্রাম অংশের মিরসরাই উপজেলার এলাকার ডাবল লাইনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে ট্রেন। এখানকার অরক্ষিত ৩০ কিলোমিটারজুড়ে প্রায় অর্ধশত লেভেলক্রসিংই যেন মৃত্যুফাঁদ। এসব ক্রসিং এ একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও নেয়া হচ্ছে না কার্যকর পদক্ষেপ।

জানা গেছে, মিরসরাইয়ের ধুমঘাট রেলসেতু থেকে দক্ষিণের বারৈয়াঢালা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে অন্তত ৫০টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং। চোরাই কাঠ ও পণ্য পরিবহণের স্বার্থে চোরাকারবারীরা এসব ক্রসিং তৈরি করেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় লোকজন। এসব ক্রসিং বন্ধে বিভিন্ন সময় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ হালকা পদক্ষেপ নিলেও তা কার্যকর হয়নি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈধ লেভেল ক্রসিং গুলোর মধ্যে বারইয়াহাট, বিএসআরএম গেট, মহামায়া ব্যতীত বাকি চারটিতে কখনো গেটম্যান নিয়োজিত থাকে নাা। অবৈধ ক্রসিংগুলো দিব্যি ব্যবহার করছে চোরাকারবারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

মিরসরাইয়ের চিনকির আস্তানা রেল স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, মিরসরাই এলাকার ৩০ কিলোমিটার রুটে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে মাত্র সাতটি। এর বাইরে মানুষের তৈরি ক্রসিং তৈরি হয়েছে অনেক। এগুলো বন্ধে বারবার কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিলেও প্রভাবশালীদের কারণে কার্যকর হয় না।

গতকাল সোমবার সকালে ফটিকছড়ি সদর সংযোগ সড়কের আমবাড়ীয়া লেভেল ক্রসিং এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় এখানে গেট নেই গেটম্যানও নেই। অথচ এ সড়কে প্রদিন অসখ্য যাত্রীবাহী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে।

স্থানীয়রা জানায়, এখানে কখনো গেট বা গেটম্যান দেয়া হয় না। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটলে রেলের লোকজন এসে গাড়ী চলাচল বন্ধ করার অপচেষ্টা চালায়।

প্রায় একই রকম পরিস্থিতি বড়তাকিয়া স্টেশন এলাকার লেভেল ক্রসিং এ। এখানেও গেটম্যান নিয়োজিত থাকে না। অথচ দিনরাত ছোট যানবাহন চলাচল করছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে চিনকি আস্তানা রেল স্টেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সময় চোরাকারবারীদের প্রতিরোধে অবৈধ ক্রসিং গুলোতে লোহার খুঁটি দিয়ে ঘিরে রাখলেও রাতের অন্ধকারে ফেলে দেয়া হয়।

এদিকে অনুমোদিত ছয়টি লেভেল ক্রসিং এর মধ্যে সবচে গুরুত্বপূর্ণ বারইয়াহাট লেভেল ক্রসিং। এখানে সর্বশেষ গত রবিবার ঘটে যায় ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা। যাতে ওইদিন প্রাণ হারায় এক চিকিৎসকসহ দুইজন। ২৫জন আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন আছেন। এর আগেও অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে এখানে। তার মধ্যে বছর দুয়েক আগে একটি যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেসময় প্রাণ হারান দুই ব্যক্তি। আহত হন অন্তত ৩০জন। এছাড়া গত ৫ বছরে এখানকার ক্রসিং এ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে অন্তত ২০জন।
বারইয়াহাট এলাকার লোকজন জানায়, এখানর ক্রসিং এ ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা প্রায়শ ঘটে। এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ রেল লাইনের ওপর বাজার বসা। মানুষ বাজার করতে এলে দামে আর পণ্যমান নিয়ে মুশগুল থাকায় ট্রেনের দিকে নজর রাখে না। এর কারণে এখানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে।

এসব বিষয়ে কথা বলতে গতকাল সোমবার চিনকির আস্তানা রেল স্টেশনের প্রধান কর্মকর্তা মঈনুল হুদা মজুমদারসহ রেলওয়ে চট্টগ্রামের একাধিক কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।