চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

লোহাগাড়ায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা: এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৪ ১৯:৪২:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৫ ১১:৩৮:২২

আরফাত বিপ্লব

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় হেফজখানায় এক ছাত্রের আঘাতে অপর ছাত্র নিহত হবার ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এলাকার প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা গোলাম রসুল কমরী ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো দ্বিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উত্তর কলাউজান শাহ্ আমজাদিয়া হেফজখানা ও নুরীয়া এতিমখানাটি বন্ধ ও এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম পরিবারকে হেয় করার জন্যই একটি মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট প্রতিদিনের ন্যায় হেফজখানার ছাত্রদের ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য ঘুম থেকে ডেকে দেয়া হয়। সবাই ঘুম থেকে উঠলেও সাজেদ কচির (৯) নামের এক ছাত্র ঘুমঘুম ভাব নিয়ে বসে ছিল। সাজেদ কচিরের ঘুমের ঘোর কাটাতে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয় অপর ছাত্র মিজানুর রহমান (১০)। এতে কচির ক্ষিপ্ত হয়ে ঘন্টা বাজানোর রডটি নিয়ে মিজানুর রহমানের দিকে ছুড়ে মারে। এতে তার মাথা রক্তাক্ত হলে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১১টায় মিজান মারা যায়। ঘটনার পরপরই আঘাতকারী শিশু সাজ্জাদ কচিরকে হেফজখানা থেকে আটক করে লোহাগাড়া থানা পুলিশ।

৩১ আগস্ট রাত্রে জানাযা শেষে মিজানের লাশ দাপন করা হয়। পরে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা গোলাম রসুল কমরী কলাউজান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমাণ্য ব্যাক্তির্বগ নিয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে তিনি শোকাহত পরিবারকে সান্তনা দেন এবং এ অনাকাঙ্খিত বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

যোগযোগ করা হলে মাওলানা গোলাম রসুল কমরী বলেন, এটি নিছক একটি দুর্ঘটনা। আঘাতকারী এবং নিহত দুজনই শিশু। একজনের বয়স ৯, আরেকজনের বয়স ১০ বছর। শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমার বাগানের একটি গোলাপ ফুল ঝরে গেল, আমি তার মা-বাবাকে ধৈর্য্যধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি ও সহনশীল হবার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তৌফিক কামনা করছি।

এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর নিহত ছাত্রের পিতা মোঃ ইসহাক মিয়া বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে উত্তর কলাউজান পীর বাড়ির মাওলানা গোলাম রসুল কমরীর পুত্র মোঃ এহসান বিন কমরী (২৮), মোঃ মকসুদ বিন কমরী (২৫), হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা গোলাম রসুল কমরী (৬৯) ও পশ্চিম কলাউজানের আবদুর রহিমের পুত্র হেফজখানার ছাত্র মোঃ সাজেদ কচির (১০)-কে আসামী করা হয়েছে। আঘাতকারী সাজেদ কচির বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে সেফ কাস্টডিতে রয়েছে। লোহাগাড়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সাজেদ কচিরকে আটক করে আমরা আদালতে প্রেরণ করি। আদালত তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দেয়।

এদিকে এক ছাত্রের হাতে অপর ছাত্র নিহত হবার ঘটনায় হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রায় সত্তর বছর বয়সী আলেম মাওলানা গোলাম রুসল কমরী ও তার দুই সন্তানকে আসামী করায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এ ব্যাপারে ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ওয়াহেদ সাহেব, থানার ওসি ও সমাজের সবাই নিহতের বাবাকে অনুরোধ করেছিলাম, মাওলানা কমরী সাহেবকে আসামী না করতে। কেননা তিনি সারাজীবন এ এলাকায় ইসলামের খেদমত করে আসছেন। অনেকগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। এলাকার সবাই তাকে শ্রদ্ধা করে। একজন বয়স্ক আলেমকে আসামী করায় এলাকার বেশিরভাগ মানুষ অসন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি। এভাবে হলে কোনো ভালো মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি করার জন্য এগিয়ে আসবেন না বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।