চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রাম বন্দরে মারাত্মক কন্টেইনার জট

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৪ ১১:২০:১০ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৪ ১৮:১০:৪৫

ঈদের টানা বন্ধের পাশাপাশি ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে ডেলিভারি ধীরগতিতে হওয়ায় মারাত্মক কন্টেইনার জট দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। বিশেষ করে ধারণ ক্ষমতার বেশি যেমন আমদানিকৃত কন্টেইনার রয়েছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অফ-ডকগামী কন্টেইনারও। স্থান সংকুলান না হওয়ায় সচরাচর কন্টেইনার রাখা হয়না বন্দরের এমন জায়গাতেও বর্তমানে কন্টেইনারের স্তূপ রাখা হচ্ছে। খবর সময়

প্রতি বছরই ঈদের সময় কন্টেইনার ওঠানামা বন্ধ থাকে না, আর সীমিত আকারে চলে ডেলিভারি প্রক্রিয়া। কিন্তু এবার পুরো একদিন ডেলিভারি বন্ধ থাকার পাশাপাশি নানা জটিলতায় অন্যান্য দিনেও আমদানিকৃত কন্টেইনারের ডেলিভারি হয়েছে খুব ধীরগতিতে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দু’ থেকে আড়াই হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হলেও, ঈদ পরবর্তী সময়ে তা কয়েক শতে নেমে আসে। এছাড়া তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময়ের ডেলিভারি বন্ধ থাকার প্রভাব এখনো কাটেনি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, ‘যে কন্টেইনারটা অকশন হয়ে যাওয়ার কথা সেটা অকশন হয়নি। যে কন্টেইনারগুলো অফডকে চলে যাওয়ার কথা সেগুলো যায়নি। এরফলে দেখা যাচ্ছে যে জায়গায় আমরা কন্টেইনার রাখি না সেই জায়গাতেও আমাদের রাখতে হচ্ছে। এরসাথে যুক্ত হয় কাস্টমসের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন। এরজন্য প্রায় বারো তেরো শতাংশ কন্টেইনার নামাতে হয়। এসব মিলিয়েই কিন্তু জটিল অবস্থা তৈরি হয়।’

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শেড এবং ইয়ার্ডে ৪০ হাজারের বেশি আমদানিকৃত কন্টেইনার রয়েছে। এর বাইরে অফ-ডকগামী কন্টেইনার রয়েছে আরো অন্তত সাড়ে চার হাজার। কিন্তু অফ-ডকগামী এসব কন্টেইনারের জন্য বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো জায়গা বরাদ্দ নেই।

চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘বন্দরের মধ্যে জাহাজের অবস্থানের সময় বেড়ে গেছে। বাইরে তো জটের সৃষ্টি হচ্ছে। ভেতরের জাহাজগুলি যদি বের না হয় তাহলে বাইরের জাহাজগুলি তো আসতে পারবে না।’

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বন্দর থেকে অবডকে যাওয়ার জন্য বন্দরের ইকুইপমেন্ট দরকার, অবডকের ইকুইপমেন্ট দরকার। সেখানে একটা অপ্রতুলতা আছে। এই কারণে আমদানি কারক, শিল্পমালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

আর ডেলিভারির ধীর গতির প্রভাব পড়েছে জাহাজ থেকে কন্টেইনার ওঠানামাতেও। বন্দরের জেটিতে জাহাজের অবস্থানকালীন সময় বাড়তে থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটা জাহাজ একদিন বেশি থাকলে দশ থেকে পনেরো হাজার ডলারের মতো আমাদের খরচ দিতে হয়। তাছাড়া রপ্তানির জন্য গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলো যে র‍্য’ ম্যাটেরিয়ালসগুলো আনে সেটা যদি তারা না পায় সেখানেও একটা লস আছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন জেটি এবং বহির্নোঙ্গরে ৩৭টি কন্টেইনারবাহী জাহাজসহ সর্বমোট ৮৬টি জাহাজ অবস্থান করছে।