চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

মিরসরাইয়ে বোয়ালিয়া ঝর্ণা আকৃষ্ট করছে পর্যটকদের

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৪ ১১:০৭:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৪ ১৮:১৩:১৯

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ঝর্ণার রাজ্য হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এবার যোগ হলো বোয়ালিয়া নামে নতুন ঝর্ণা। অন্য ঝর্ণা থেকে অনেকটা ব্যতিক্রমী এই ঝর্ণা আবিস্কার হয়েছে খুব বেশি দেরি হয়নি। নতুন এই ঝর্ণা দেখতে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন শত শত ভ্রমণ পিপাষু মানুষ। এখানে ছোট বড় কমপক্ষে পাঁচটি ঝর্ণা এবং অনিন্দ্যসুন্দর একটি পাথুরে ঢাল আছে যার নাম উঠান ঢাল।

এ ট্রেইলের মূল ঝর্ণা হলো বোয়ালিয়া এবং এ ঝর্ণায় যাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। বোয়ালিয়া ঝর্ণার বিশেষত্ব হলো এ ঝর্ণার আকৃতি অদ্ভুত ধরনের।এর আকৃতি অনেকটা ব্যাঙের ছাতার মতো এবং বোয়াল মাছের মাথার মতো বিধায় হয়তো এই ঝর্ণার নাম হয়েছে বোয়ালিয়া।

বোয়ালিয়া ভারী বর্ষায় খুব মারাত্বক রূপ ধারণ করে এবং এ সময়টাতেই এ ঝর্ণাটি সবচেয়ে সুন্দর। মূল ঝর্ণার পানি যেখানটায় পড়ে সেটা অনেকটা গুহা কিংবা গভীর খাদের মতো।ভরা বর্ষায়,সাঁতরে এই ঝর্ণায় যেতে হয়। ঝর্ণার উপরে আরো ছোট ছোট ঝর্ণা আছে এবং ঝিরিপথ খুবই সুন্দর।তবে বোয়ালিয়ার উপরে যাওয়াটা খুবই বিপজ্জনক এবং ভরা বর্ষায় প্রায় অসম্ভব।

বোয়ালিয়া ট্রেইলের মূলত দুইটা পার্ট,উত্তর পূর্ব আর দক্ষিণ পূর্ব। দক্ষিণ পূর্বে বোয়ালিয়া যেটি খুব বেশি দূরে না।তবে উত্তর পূর্বেও ট্রেইলে বিভিন্ন নামের আরো চার-ছয়টি ছোট বড় ঝর্ণা আছে।

বেশিরভাগ ভ্রমণপিপাসু বোয়ালিয়া দেখে চলে আসে কিন্তু উত্তর দিকের ছড়া হয়ে উঠান ঢাল কিংবা নহাতিকুম ঝর্ণা পর্যন্ত যায় না। অবশ্য উঠান ঢালে যেতে হলে খুব দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়।পুরো পথটা যেতে হয় ছড়া দিয়ে হেঁটে হেঁটে।

বর্ষাকালে ছড়ায় প্রচুর পানি থাকে। এমনকি কোথাও কোথাও একেবারে বুক সমান পানি।এই ছড়ায় প্রচুর বালি আর অসমান অনেক পাথরের কারণে হাঁটা অনেক কষ্টসাধ্য। তার উপর ভয়ংকর বাঁশের কঞ্চি কিংবা গাছের ঢাল।এই ছড়াটা বেশ অপরিস্কার মনে হয়েছে।সম্ভবত এ পথে যাতায়াত কম বলে পাথরগুলো মারাত্মক পিচ্ছিল।আঁকাবাঁকা এই ঝিরিপথে প্রচুর বাঁশঝাড় চোখে পড়ে।পথে ছোট ছোট ঝর্ণার দেখা মিলে।

ঝিরিপথ হয়ে এক ঘন্টা হাঁটার পর উঠান ঢালের দেখা মিলবে।এ ঢালটা অসম্ভব রকমের সুন্দর।পাহাড়ের বুকে পাথরের আস্তরণ আর পানি নিচের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে কলকল করে,এমন সুন্দর দৃশ্য দেখলে যে কারোই মন জুড়াবে।

উঠান ঢালের পরের পথটা খুবই ভয়ংকর তবে অসম্ভব সুন্দর।বড় বড় পাথর আর ছোট ছোট কুমের সমাহার।এই পথটা খুবই পিচ্ছিল। প্রায় দশ মিনিট কঠিন পথ পাড়ি দিলে নহাতিকুম ঝর্ণা পাওয়া যাবে।এই ঝর্ণার উচ্চতা খুব বেশি না কিন্তু বেশ চওড়া। পুরো ঝর্ণা বেয়ে যখন পানি পড়ে তখন এর সৌন্দর্য্য ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।অনেকের মতে নহাতিকুম এর পরেও আরো ঝর্ণা আছে।না জানি এ পথে আরো কতটা রহস্য আর সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে।

কথা হয় বোয়ালিয়া ঝর্ণায় ঘুরতে যাওয়া একদল তরুণের সাথে। যাদের নেশা মিরসরাইয়ের নতুন নতুন ঝর্ণায় বিচরণ। তাদের একজন হলেন সোনালী স্বপ্ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মঈনুল হোসেন টিপু। তিনি বলেন, বছরের দুই ঈদ কিংবা যে কোন ছুটিতে তারা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়ায়। বিশেষ করে এখানকার ঝর্ণাগুলো অসাধারণ। একে একে খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নাপিত্তাছড়া, বাওয়াছড়া, রূপসী ঝর্ণা বেড়ানো হয়েছে। এই প্রথমবার এসেছি বোয়ালিয়া ঝর্নায়। এই ঝর্ণাও এক কথা অসাধারণ। তবে যাতায়াত কষ্টকর। তবে যাতায়াত পথ আরো সহজ হলে পর্যটক অনেক বাড়তো বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ঝর্ণায় যাওয়ার আগে বা পরে ব্রাক পোলট্রি ফার্মের পূর্ব দিকে পাহাড়ি সড়কটি একটু ঘুরে আসলে ভ্রমণটা পূর্ণতা পাবে। এই সড়ক ধরে ফটিকছড়ি যাওয়া যায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক আর সবুজের সমাহার যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

যেভাবে যাবেনঃ
দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদরে গাড়ি থেকে নামতে হবে। এরপর মিরসরাই বাজার হয়ে পূর্ব দিকে সিএনজি যোগে জনপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়ায় ব্রাক পোল্ট্রি ফার্ম অর্থাৎ পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে নামতে হবে। সেখান থেকে ছড়া ধরে কিংবা মানুষের তৈরি পাহাড়ি পথ ধরে কিছুটা হাঁটলেই বড় ছড়া পাওয়া যাবে। সেখান থেকে উত্তরে গেলে উঠান ঢাল এবং নহাতিকুম ঝর্ণা আর দক্ষিণ পূর্বে গেলে বোয়ালিয়া ঝর্ণা পাওয়া যাবে।

সতর্কতাঃ
এই ট্রেইলে ভয়ংকর সব জোঁকের আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ভরা বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের মাঝে পড়লে বিপদ আর ছড়ায় পানির পরিমাণও বেশি থাকে।পাথরগুলো খুবই পিচ্ছিল আর প্রচুর বাঁশের কঞ্চি আর গাছের ঢাল পুরো পথ জুড়ে। সাবধানে পথ পাড়ি দিতে হবে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

থাকা ও খাওয়াঃ
মিরসরাই সদরে পার্কইন রেষ্টুরেন্ট, বারইয়ারহাটে কাশবন ও গ্রীণপার্ক রেষ্টুরেন্ট রয়েছে। তবে থাকা ও খাওয়ার জন্য পর্যটন স্পট থেকে ১ ঘন্টার পথ চট্টগ্রাম শহরের একেখাঁন ও অলংকার মোড়ে রয়েছে কুটুম্ববাড়ি রেস্তোরা। থাকার জন্য রয়েছে একেখাঁনে মায়ামী রিসোর্ট ও অলংকারে রোজভিও আবাসিক হোটেল।