চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

বাকলিয়া এক্সেস রোডের এলাইনমেন্টে সেই ১০ তলা ভবন

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০৩ ১২:৫৮:১০ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০৩ ১৮:৫০:০৩

বাকলিয়া এক্সেস রোডের এলাইনমেন্টের মধ্যে গড়ে উঠা আলোচিত সেই ১০ তলা ভবন নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নবাব সিরাজুদ্দৌল্লা রোড থেকে বাকলিয়া থানা পর্যন্ত ( বহদ্দারহাট শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক) প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬০ ফুট চওড়া রোড নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের আগস্টে। গত বছরের নভেম্বরে এই প্রকল্পের কাজ বাকলিয়া থানা প্রান্ত থেকে শুরু হলেও এই রোডের এলাইনমেন্টের উপর ১০ তলা ভবনটি গড়ে উঠলেও তা ভাঙা হবে না, ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি সিডিএ।

নগরীর সিরাজুদ্দৌল্লা রোডে চন্দনপুরা মসজিদের বিপরীত পার্শ্বে আয়েশা খাতুন লেইন ( প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান কায়সারের বাড়ির পাশ দিয়ে) দিয়ে আড়াআড়িভাবে রোডটি চাক্তাই খালের উপর দিয়ে চলে যাবে। ৬০ ফুট চওড়া এই রোডটি চন্দনপুরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুকুরের কর্ণার দিয়ে আরো কয়েকটি পুকুরের উপর দিয়ে গিয়ে মিলিত হবে ডিসি রোডের সঙ্গে। ডিসি রোড থেকে উত্তর-পশ্চিম কোনে বেঁকে বগার বিল, সৈয়দশাহ রোড অতিক্রম করে বাকলিয়া থানার পাশ দিয়ে শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের সঙ্গে মিলিত হবে। ২০৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একনেক থেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। রোডটি নির্মিত হলে শাহ আমানত সেতু থেকে সহজেই নগরীর অভ্যন্তরে যাতায়াত করতে পারবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ।

কিন্তু বাকলিয়া ডিসি রোডে মৌসুমী আবাসিক এলাকায় সিডিএ’র অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছে হাজী চাঁন্দমিয়া সওদাগর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্ণেল (অব:) মোহাম্মদ ইকবাল। ইতিমধ্যে এই ভবনের ৩৭টি ফ্ল্যাট বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রিও করেছেন মোহাম্মদ ইকবাল। সিডিএ’র ভাষ্যমতে, কর্ণেল ইকবাল তথ্য গোপন করে ভবনের অনুমোদন নিয়েছেন এবং ভবনটি অবৈধ। অপরদিকে কর্নেল ইকবাল বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিবেদকে বলে আসছেন, সিডিএ’র অনুমোদন নিয়েই আমি ভবন নির্মাণ করেছি। সিডিএ’র অনুমোদনের বাইরে আমি কোনো কাজ করিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এই ভবন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তহীনতায় পৌঁছাতে না পারা প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহি প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দিন বলেন,‘ অবশ্যই এলাইনমেন্ট অনুযায়ী রোড নির্মাণ করা হবে। আর এই এলাইনমেন্টের উপর থাকা ১০ তলা ভবনটিও ভাঙা হবে।’

এখন ভাঙা হলে সেই ভবনের ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্ণেল ইকবালের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদন অনুযায়ী ভ্যালুয়েশন করতে কাজও করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যদি চায় তাহলে ক্ষতিপূরণ দেবে। তবে এবিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

বাকলিয়া এক্সেস রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পের অধীনে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, এই সড়কটি বাস্তবায়ন হলে চারপাশের সব ডোবা ভরাট হয়ে যাবে এবং এই এলাকা উন্নত হবে। এলাকার ভূমির মূল্য যেমন বাড়বে তেমনিভাবে নাগরিক সেবাও বাড়বে।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই সড়কটি নির্মাণের জন্য ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে প্রস্তাবনা ছিল এবং বহু আগেই উদ্যোগ নেয়ার কথা ছিল। সেমময় জায়গাটিতে কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। কিন্তু এই নির্ধারিত জায়গার মধ্যে গড়ে উঠেছে ১০ তলা ভবনটি। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী রোডটি এখনো নির্মাণ না হওয়ায় জনবহুল বাকলিয়া এখনো প্রায় অবহেলিত। এই রোড নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর ভেতরের রিং রোড ও আউটার রিং রোডগুলো নির্মাণ করা হলে নগরীতে ফ্লাইওভারের প্রয়োজন নেই। বিকল্প রোড নির্মাণ হলে স্বাভাবিকভাবেই নগরীর যানজট কমে যাবে। অপরদিকে বগার বিল হিসেবে পরিচিত এলাকাটি নগরীর জলাধার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এই এলাকায় ভবন নির্মাণ হওয়ায় এখন আর জলাধার নেই এবং নগরীতেও বেড়েছে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগ। -বার্তা২৪