চট্টগ্রাম, , বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮

‘ষড়যন্ত্রে লাভ হবে না, আপনাদের এবার বিদায় নিতেই হবে’

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০২ ১৩:১৬:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০২ ১৩:১৬:০১

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা করে লাভ হবে না আপনাদের এবার বিদায় নিতেই হবে। গতকালের জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগমেই প্রমাণিত হয়েছে জনগন এ সরকারকে আর চায় না।

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বার বার বাধাগ্রস্ত করছে সরকার। তিনি একের পর এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আবার তা নানা কায়দায় আটকে দিচ্ছে সরকার। সরকারের নির্দেশেই বেগম জিয়া কারাগারে আটকে আছে। বেগম জিয়া প্রতিহিংসামূলক সরকারি বিচারে কারাবন্দি। তার কারাবন্দীত্ব শুধুমাত্র সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন আওয়ামী মন্ত্রীরা। সংবিধানতো পরিবর্তন করেছেন আপনারা। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন বাতিলের মাধ্যমে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। সুতরাং গতকালের ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য অগ্রহনযোগ্য ও সত্যের অপলাপ। সংবিধান সংশোধন করা যায়-যেমনটি ক্ষমতাসীনরা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আপনারা কিভাবে বাদ দিয়েছেন, আপনারা যেভাবে বাদ দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই আবার তা সংবিধানের সংযোজন করা সম্ভব।

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, জনাব ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য কোনোভাবে গ্রহনযোগ্য নয়। জনগণ আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকালের জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগমেই প্রমাণিত হয়েছে জনগন এ সরকারকে আর চায় না। বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বার বার বাধাগ্রস্ত করছে সরকার।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনে সেনামোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো গড়িমসি চলবে না। জনগনের ভোট জনগন দিতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই।’

রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগন হতে দিবে না। শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচনের শত্রু পক্ষ। তার অধীনে নির্বাচনের অর্থই হচ্ছে ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ। জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নীলনকশা বন্ধ করুন। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্প সংখ্যক দেশে যারা ইভিএম চালু করেছিল তারাও এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ সকল প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কেন এ গণবিরোধী সরকার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট করতে চায়, সেটি এখন জনগন টের পেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সারাবিশ্বব্যাপি ইভিএম নিয়ে সন্দেহ প্রবণ এ মাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে তখন বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকার এ মেশিন চালু করতে এতো উৎসাহি কেন তা সুস্পষ্ট। এক শুভঙ্করের ফাঁক দিয়ে তিনি বাজিমাত করতে চান। তবে তার দুরভীসন্ধি জনগনের কাছে ধরা পড়ে গেছে। ভোট ডাকাতির বিপক্ষে ও অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষেই বাংলাদেশের জনগন।