চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

ইভিএম দিয়ে আ. লীগ কারচুপির নির্বাচন চায়, নোমান

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০১ ২১:১২:৪৩ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০১ ২১:১২:৪৩

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কারচুপির নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে না, যাবে না, যাবে না।’

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে সরকারের নতুন ষড়যন্ত্র বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নোমান বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে জনগণ যায়নি। খালেদা জিয়া কারাগারে থাকলে জনগণ এবারও ভোট প্রত্যাখ্যান করবে। খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশের রাজনীতি হবে না। মাছ যেমন পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না, এদেশের জনগণও তেমনি বিএনপি ছাড়া বাঁচবে না।’

দেশে একটি বিস্ফোরণন্মুখ পরিস্থিতি বিরাজ করছে মন্তব্য করে নোমান বলেন, ‘যেকোনো সময় জনগণ রাস্তায় নেমে সরকারের পতন ঘটাবে। এ অবস্থায় বিএনপির জন্য আন্দোলন ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।’

একই সমাবেশে বিএনপির আরেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘এই সরকারের পতনের লক্ষে চট্টগ্রাম থেকেই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করব। অতীতেও সব আন্দোলনের সূচনা চট্টগ্রাম থেকেই হয়েছে। জেল-জুলুমে ভয় পাই না।’

দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনের সামনে নগরীর নুর আহমদ সড়কে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। লালদিঘীর মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি চাইলেও পুলিশ বিএনপিকে দলীয় কার্যালয়ে অনুমতি দেয়। তবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে মঞ্চ বানিয়ে সমাবেশ করে বিএনপি।

বিকালে সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকে খণ্ড, খণ্ড মিছিল আসতে থাকে নূর আহমদ সড়কে। মূল সমাবেশ শুরুর আগেই হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানে হাজির হন। মিছিলে মিছিলে আশপাশের এলাকাও সরব হয়ে উঠে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে তিন শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এস এম ফজলুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

সমাবেশে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম থেকে শিগগির গণমিছিল ও স্বেচ্ছা কারাবরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী লংমার্চ হবে।’

মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন- এক এগারো আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল। আর এখন কাদের সাহেব বলছেন, তিনি এক এগারোর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। তাই এখনই সরকারের পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।’

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘ইনু-মেননের ফর্মুলা ধরে সরকার বিএনপিকে ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু একজনও বিএনপি ছেড়ে যায়নি। গলাধাক্কা দিলেও একজন কর্মী বিএনপি ছেড়ে যাবে না।’