চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বৃহত্তর ঐক্যের ডাক বিএনপির

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০১ ১৯:২৭:২৫ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০২ ১০:৫১:৫৯

গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ থেকে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিল বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ডাক দিয়ে বলেছেন, এখন আর বিভেদ নয়, গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমাদের বুকের ওপর যে দুঃশাসন চেপে বসেছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐক্য গঠনে এগিয়ে আসা রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিবর্গকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এখন আর ভেদাভেদ নয়, আসুন গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে সবাই মিলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে এই স্বৈরচারী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন নিশ্চিত করি। দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠাতা করি। কারণ দেশের মানুষ এই সরকারের লুটপাট নির্যাতন অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি চায়।

তিনি বলেন, সরকারের এখন বিএনপি ভীতি কাজ করছে। এই ভীতি থেকে বাঁচতে ইভিএম নিয়ে আসছে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল বলেন, বুকে সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। গণতন্ত্রের মাতাকে আর কারাগারে দেখতে চাই না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানসহ দলের সকল নেতাকর্মীদের ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির সব কথার শেষ কথা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পূর্বে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সরকারের পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনের সময় সামরিক বাহিনী দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এর সকল দায়ভার এই সরকারকেই বহন করতে হবে।

বিএনপি এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা দুঃস্বপ্ন দেখে আসল আসল বিএনপি আসল, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আসল। এই নিয়ে তাদের ঘুম হয় না। ২৪ ঘন্টায় তাদের ভীতি কাজ করে। এ থেকে রক্ষা পেতে এখন ইভিএম নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, কারণ তারা জানে এবার নির্বাচনে জনগণ তাদের রক্ষা করবে না।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিতে নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে বলেও মন্তব্য করেছেন ফখরুল।

আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, বরকত উল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, মশিউর রহমান, ফজলুল রহমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান প্রমুখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম।

এর আগে সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নেতাকর্মীদের নয়াপল্টনমুখী স্রোত তৈরি হয়েছে।

‘খালেদা জিয়া ভয় নেই রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ‘আজকের এই দিনে জিয়া তোমায় মনে,’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলে নয়াপল্টনের আশপাশ এলাকা।