চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম কতটা উপযোগী?

প্রকাশ: ২০১৮-০৯-০১ ১১:৩৭:১৭ || আপডেট: ২০১৮-০৯-০১ ১১:৩৭:১৭

ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা নিয়ে একটি পক্ষ অভিযোগ করলেও তা মানতে নারাজ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এ পদ্ধতিতে কারচুপি অসম্ভব। তবে পদ্ধতি যেমনই হোক এখনই জাতীয় নির্বাচনে বৃহৎ পরিসরে তা ব্যবহারের সময় আসেনি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দল, ভোটারসহ সবপক্ষের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির পরেই বড় পরিসরে এ পদ্ধতি ব্যবহারে যেতে ইসিকে পরামর্শ তাদের।

সবশেষ স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ছয়টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তেইশটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক-ভাবে ইভিএম ব্যবহার হয়েছে। এতে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। ভোট গ্রহণ সহজ ও দ্রুত হলেও নতুন এ বিষয়টি মানিয়ে নিতে একাধিকবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

এছাড়া খুলনায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি কেন্দ্রে কিছুক্ষণ বন্ধ ছিলো ভোট গ্রহণ। বরিশালে স্থগিত হয় একটি কেন্দ্র। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল প্রাপ্তি।

তবে ইভিএম-এ ভোট জালিয়াতি কতটা সম্ভব তা নিয়ে বিতর্ক ছিলো শুরু থেকেই। ইভিএম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে ভোটারের বায়োমেট্রিক কিংবা স্মার্টকার্ড ছাড়া কোনভাবেই ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়। তাছাড়া অনলাইন সংযুক্ত না থাকায় হ্যাকিংয়েরও শঙ্কা নেই।

ইভিএম সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটারের আইডেন্টিফিকেশন জন্য বায়োমেট্রিক রেখেছি। অর্থ্যাৎ ভোটারকে বুথে না নিয়ে কোনভাবে সে ভোট দিতে পারবে না। ওই কেন্দ্রে যতগুলো ভোটার তাদের সম্পূর্ণ ডাটাবেজ কপি করা থাকবে। এখানে নেট দিয়ে হ্যাকিংয়ে সুযোগ নেই, কেননা এটা অফ লাইন। কেউ যদি ভোট দেওয়ান চেষ্টা করে। এইগুলো সব রেকর্ড হতে থাকে।

নির্বাচনী বিশ্লেষকরা জালিয়াতি হওয়ার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ না করলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা। এ অবস্থায় এক’শ আসনে ইভিএম ব্যবহার না করে একই পরিমাণ মেশিন ৩০০ আসনে ভাগ করে পরীক্ষা করার পরামর্শ তাদের।

স্থানীয় সরকার বিশ্লেষক ড. তোফায়েল আহমদে বলেন, ভোটাররা সেই মিশিনটা শুধু ভোটের দিনই দেখবে, আর একদিনেই গিয়ে এক-দুই মিনিটে কাজটি করতে হবে। এতে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব হবে। এক সাথে ওয়ান-থার্ড বাদ দিয়ে একসাথে পাঁচটা বুথে করেন এবং দুইটা সেন্টারে করেন। এতে গ্রহণযোগ্যতা আসবে।

বিতর্ক এড়াতে ভোটারদের নতুন এই পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে আরো সময়ের প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।