চট্টগ্রাম, , রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঈদে বন্দরনগরী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-২১ ১৭:৪৩:২৯ || আপডেট: ২০১৮-০৮-২১ ১৭:৪৩:২৯

আগামীকাল বুধবার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। নগরীতে ৪ স্তরের নিরাপত্তার বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে ঈদের জামায়াতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পুলিশ কমিশনার।

এসময় পুলিশ কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। ঈদের জামাতে প্রবেশ ও বাহিরের পথে আর্চওয়ে গেইট, মেটাল ডিটেকটর মজুদ থাকবে।

ঈদুল আযহার নামাজকে কেন্দ্র করে নাশকতা ঠেকাতে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ঘিরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

পোশাক পরিহিত পুলিশের সাথে সাদা পোশাক পরিহিত গোয়েন্দা পুলিশসহ তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেসকল নগরবাসী ঈদ উপলক্ষে শহর ছেড়েছেন তাদের বাসাবাড়ির নিরাপত্তার জন্য বিশেষ মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। নগরীর প্রধান ঈদ জামায়াত জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে ঈদের জামায়াতে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বহাল থাকবে। কোরবানির পশুর চামড়া যাতে অবৈধভাবে পাচার হতে না পারে তার জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া ছিনতাই ও পাচার প্রতিরোধসহ সার্বিক নিরাপত্তায় নগরীর ৫৪টি পয়েন্টে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ থাকবে। এছাড়া এবার ঈদ জামাতে অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি তল্লাশি করা হবে জানিয়ে মুসল্লিদের এ বিড়ম্বনা মেনে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন কমিশনার

সিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের জামাত যাতে সুশৃঙ্খলভাবে হয় সেজন্য চারস্তরের নিরাপত্তা আমরা নিয়েছি। প্রবেশমুখে পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অন্ত:ত চারবার তল্লাশির পর মুসল্লীরা যেতে পারবেন মূল প্রাঙ্গনে। এতে কিছুটা বাড়তি বিড়ম্বনা হবে। এই বিড়ম্বনা মেনে নেওয়ার জন্য আমরা মুসল্লিদের প্রতি অনুরোধ করছি।

কোরবানির চামড়া সংগ্রহ নিয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, চামড়া যাতে বর্হিমুখী না হয়, সেজন্য প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। চামড়া ছিনতাইয়ের মতো কোন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য ৫৪টি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারিও করা হবে।

‘প্রায় ৫-৬ লাখ মানুষ ঈদ করার জন্য চট্টগ্রাম নগরী ছেড়েছেন। খালি বাসা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকে যাতে কোনো ধরনের চুরি-ডাকাতি না ঘটে সেটা আমরা দেখব। আমাদের ৭৫ ভাগ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ২৫ ভাগকে বাড়িতে ঈদ করার জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে। তিন হাজারের বেশি সদস্য ঈদে চট্টগ্রাম নগরের নিরাপত্তায় থাকবেন।’

পুলিশের বাড়তি সতর্কতার কারণে এবার গরুর বাজারেও চাঁদাবাজি-ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি- মলম পার্টির দৌরাত্ম্য এবং জাল টাকার ব্যবহারের কোন খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

তিনি বলেন, সিসিটিভি’র মাধ্যমে জমিয়াতুল ফালাহ’র কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। এছাড়া প্রতিটি টেকনিক্যাল পয়েন্টে ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটর করা হবে।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ উল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আমেনা বেগম, বিপিএম-সেবা, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিঃ উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।