চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

ফেসবুকে অন্তরঙ্গ ছবি, শুভকে হত্যা করে সাবেক স্ত্রী

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৮ ১৯:৩৪:১০ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৯ ১৮:০৫:১২

চট্টগ্রামে ফয়স লেক এলাকার লেকভিউ নামের আবাসিক হোটেল থেকে বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে শাহরিয়ার শুভ নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাহরিয়াকে হত্যা করেন তারই সাবেক স্ত্রী রোকসানা আকতার পপি।

শনিবার (১৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার (সিএমপি) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম।

তিনি বলেন, ছাড়াছাড়ির পর ফেসবুকে অন্তরঙ্গ ছবি দিয়ে ট্যাগ করায় নৃশংসভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন পপি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট পপি চীন থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পরের দিন মাঈনুদ্দিন শাহরিয়া শুভকে নিয়ে ফয়েস লেক লেকসিটি মোটেল ফাইভ হোটেলে রুম ভাড়া নেন। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাঈনুদ্দিন শাহরিয়ারকে গলা কেটে পপি পালিয়ে যান। পপিকে তাঁদের আলফালাহ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালে দাম্পত্য কলহের কারণে বিচ্ছেদের পর পপি চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়তে চীন চলে যান। মাঈনুদ্দিন শাহরিয়ার তাঁদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে যুক্ত করার ক্ষোভে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।

সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ২০১২ সালের তাদের বিবাহ হয় এবং ২০১৫ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু কোনো এক কারণে তারা (পরিবার) জানে না যে, তারা এই হোটেলে অবস্থান করছিল। আমরা পরিধেয় বস্ত্র দেখে যেটা জানতে পারি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর (নিহত মাঈনুদ্দিন) প্রাক্তন স্ত্রী রোকসানা আক্তার পপি, সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে। মেয়েটির পরিচয় শনাক্ত করা হয় এবং তার স্থানীয় বাসা সেখানে পরিচয় শনাক্ত করার পরে ডিসি নর্থ এবং আমাদের পুলিশের পুরো টিমটা তারা ঢাকায় ইমিগ্রেশনে জানায় যে, সে যাতে বাংলাদেশ থেকে যেতে না পারে। তার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আমাদের পুলিশ টিম তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আমেনা বেগম আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বীকারোক্তি দেয় যে, সে ডিভোর্স হওয়ার পরে কিছুদিন আগে এই মৃত মাঈনুদ্দিন মেয়েটির কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি একটা ফেক আইডি তৈরি করে তাকে ট্যাগ করে এবং দেখানোর কারণে সে ক্রুদ্ধ ছিল এবং রাগের কারণে সে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে আমাদের প্রাথমিকভাবে জানায়।