চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

খসরু কোথায়, জানে না বিএনপিও! দুদকে তলব

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৬ ২২:৩১:১৪ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৭ ১২:১০:২৪

নিরাপদ সড়ক দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় এক অডিও প্রকাশের জের ধরে অন্তরালে চলে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিগত কিছুদিন তাকে দলের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সর্বদা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বিএনপির এই নেতাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল ইসলামের সই করা চিঠি তার চট্টগ্রামের চকবাজারের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘আগামী ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীর খসরুকে দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার এবং নিজে, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরই অংশ হিসেবে তাকে তলব করা হয়েছে।

তবে আমীর খসরু ঠিক কোথায় আছেন, তা বিএনপির নেতারাও জানেন না। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কিংবা গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত নন। এমনকি আমীর খসরুর মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সর্বশেষ উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু। এরপর গুলশানে তিন দফায় দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা বৈঠকে বসলেও তাতে আমীর খসরু যোগ দেননি।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে যে প্রক্রিয়ায় কারাগারে নেয়া হয়েছে, দলের বাকি নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে একইভাবে কারাগারে নেয়ার চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে তারা আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘তেমনই প্রক্রিয়ায় আমীর খসরুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতেই হয়তো তিনি আপাতত অন্তরালে আছেন। সময়মত ঠিকই দলের ডাকে সাড়া দেবেন।’

আমীর খসরুর সম্পর্কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশান কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’নেতার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা স্পষ্ট জানান, আমীর খসরুর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। অনেক পন্থায় চেষ্টা করেও তাকে পাননি।

তবে বিএনপির মাধ্যমসারির এক নেতা বলেন, ‘রাজনীতিকদের অনেক সময় অনেক কৌশল নিতে হয়। আমীর খসরু দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। সরকারের প্রতিহিংসা থেকে নিজেকে রক্ষায় হয়তো তিনি আড়ালে আছেন। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবারো দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।’

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট রাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলেন। ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

গত ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ভাইরাল হয়। এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে কুমিল্লা থেকে নওমি নামের এক কর্মীর সঙ্গে তাকে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নওমিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামানোর জন্য নির্দেশ দেন আমীর খসরু। এরপর নওমি ও তার বাবাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।