চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

শিশু রাইফার পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ নয়: হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৪ ১৩:২৯:৩০ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৪ ২০:৩১:১৬

চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের ‘চিকিৎসকদের অবহেলায়’ সাংবাদিকের শিশুকন্যা রাইফা খানের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল দেন।

রুলে অবহেলার জন্য হাসপাতালসহ জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

শিশু রাইফার বাবা দৈনিক সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ রুবেল খানের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ রুল দেন আদালত।

রুলে চিকিৎসার অবহেলায় বা ভুল চিকিৎসায় মারা গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য কেন নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল), বাংলাদেশ মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি, ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট তিন চিকিৎসককে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টে গত ৯ আগস্ট রিট আবেদনটি করেন সাংবাদিক রুবেল খান। এ রিট আবেদনের ওপর আজ শুনানি করেন আইনজীবী তাজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ এনাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

গলা ব্যথাজনিত অসুস্থতা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর গত ২৯ মে ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ২ বছর ৪ মাস বয়সী শিশু রাইফা। চিকিৎসকদের অবহেলায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে তখন অভিযোগে ওঠে।

এরপর ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম-সম্পাদক সবুর শুভ।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুটির রোগ নির্ণয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ প্রয়োগ যথাযথ থাকলেও অভিযুক্ত তিন চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশিষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব কর্তব্যে অবহেলা করেছেন।

রাইফার যখন খিঁচুনি হয় তখন তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্স ছিলেন না।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও ত্রুটি নিয়ে ১১টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। ১৫০ শয্যার এ হাসপাতালে লাইসেন্স নবায়নে ত্রুটি, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর কোনো নিয়োগপত্র না থাকা, প্যাথলজি বিভাগ ও চিকিৎসকের কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়।