চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

দৌল্লাহ’র কুশপুত্তলিকা দাহ, ফেইসবুকে সমালোচনার ঝড়, দুই বিএনপি নেতা অাটক

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১২ ২২:৪১:০৭ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১৩ ১৬:৩২:২২

নাজিরহাটের ধানের শিষের নির্বাচিত মেয়রের অা’লীগে যোগদান

মীর মাহফুজ অানাম
সিটিজি টাইমস প্রতিবেদক

এক সময়ে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন তিনি। মাঝে কিছুটা সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সর্বত্র। ছিলেন দু’বারের ইউপি চেয়ারম্যান। নাজিরহাট পৌরসভায় ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বিএনপিকে এড়িয়ে চলতেন। দলীয় কোন নেতাকেও বিজয়ী হওয়ার পর ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যেতেও দেখা যায়নি তাকে। বরং উল্টো অা’লীগের মিটিং এ তার উপস্থিতি দেখে সমালোচনায় পড়েন। দলের তোপের মুখে একটি ইফতার মহফিলে যোগদান করেছিলেন। অা’লীগের সাথে সখ্যতা দেখে গুঞ্জন ছিল তিনি দল পরিবর্তন করে অা’লীগে যোগ দেবেন। অবশেষে গুঞ্জন সত্য প্রমানিত হলো। যার কথা বলছিলাম এস এম সিরাজদৌল্লাহ। নাজিরহাট পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। নির্বাচিত হওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় অাজ (রোববার) অা’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেনকে ফুল দিয়ে দলের ফরম পূরণ করে অানুষ্টানিকভাবে অা’লীগে যোগ দেন। দলের প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে উল্টে যাওয়াকে সহজে মানতে পারছে না বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থকরা। অাজ সারাদিন খবরটি ছড়িয়ে পড়লে, ফেইসবুকজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ছে।

সোহেল রানা নামক একজন লিখেছেন, ‘ নাজিরহাটবাসী সিরাজদৌল্লাহকে মীর জাফর হিসেবে অাজীবন মনে রাখবে’। বাবর মিয়া লিখেছেন, দৌলা মারা গেলে জানাজা পড়ার লোক পাওয়া যাবে না। কারণ মোনাফেকের কোন মাওলানা জানাজাও পড়াতে অাসবে না ‘। এ ছাড়া অনেকে লিখেছেন,’ অামরা মিরজাফরকে দেখিনি,কিন্তু ২০১৮ সালে সিরাজদৌল্লাহকে দেখে মীরজাফরকেও দেখলাম। এদিকে সন্ধ্যায় নাজিরহাট বাজারে মেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহ করে, তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়েছে ছাত্রদলের নেতারা। রাত অাটটার দিকে নাজিরহাট বাজার থেকে পুলিশ যুবদল নেতা ও সিরাজদৌল্লাহ’র নির্বাচনে অগ্রনি ভূমিকা রাখা হাসানুল কবির হাসানকে অাট করে। হাসান ‘ ফেইসবুকে লিখেছিলেন,’ অাজ বিএনপি নেতা সিরাজদৌল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন’। একইসাথে অপর এক বিএনপি নেতা সিরাজদৌল্লাহ চৌধুরি দুলালকেও অাটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও এ নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে বিএনপি’র প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির একাংশের অাহবায়ক প্রবীণ বিএনপি নেতা মির্জা অাকবর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিরাজুদৌল্লাহ একজন বেঈমান, মুনাফেক। তার জন্যে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে প্রবাসী বিএনপি সমর্থকরা লক্ষ লক্ষ টাকা নির্বাচনী খরচ পাঠিয়েছেন। সে টাকা নির্বাচনে পুরোটা খরচ না করে তিনি মেরে দিয়েছিলেন। এখন হালুয়া-রুটির ভাগের জন্য তিনি দল বদল করেছেন। তিনি দল এবং দলের হাজারো নেতা-কর্মী সমর্থকের সাথে বেঈমানী করেছেন। তিনি একজন মুনাফেক। অামরা তার এ কাজের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জানাচ্ছি।

অপরদিকে, অা’লীগে যোগাদনের পর মেয়র সিরাজুদৌল্লাহ বলেন, ‘অামি ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম। কিছুদিন অভিমান করে দূরে ছিলাম। এখন অাওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অাবারো সক্রিয় হচ্ছি। উন্নয়নের জন্য শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর অাদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবো। এ সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।