চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

অভিজাত শ্রেণীর গ্র্যাজুয়েট চোর: হোটেলে রুম ভাড়া নিয়ে চুরি করা যার পেশা

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১১ ২০:৫৪:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১২ ২০:৩৯:৩৪

নাম তার শওকত আকবর। গ্র্যাজুয়েশন করেছেন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। চাকুরিও করেছেন পরিবহন সেক্টরে। গ্র্যাজুয়েশন করে কেউ চাকুরির পেছনে ছুটে, তবে শওকত আকবর কোন কিছুর পেছনে না ছুটে চুরিকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন বেশ জেনে শুনেই। আর এই কারনে শওকতের পেছনে উল্টো ছুটতে হয়েছে পুলিশকে।

শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডের অভিজাত হোটেল ফেভার ইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই গ্রাজুয়েট চোরকে। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি করা একটি ল্যাপটপ, দুইটি মোবাইল ও নগদ ১৬ হাজার টাকা।

কতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসিন এই অভিজাত শ্রেণীর গ্র্যাজুয়েট চোরকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শওকত জানান, তার বাড়ি সাতকানিয়ায়। গ্রাজুয়েশনে শেষে সৌদিয়া পরিবহনে কিছুদিন চাকুরি করেছেন। সেখানে থাকতেই ছোটখাট চুরিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ধীরে ধীরে চাকুরি ছেড়ে তিনি চুরিকেই প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেন।

তবে তার চুরির ধরন অন্যদের চেয়ে আলাদা। তিনি মূলত চুরি করেন আবাসিক হোটেলে। প্রথমে ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, সরকারি চাকুরে কিংবা অন্য কোন পরিচয়ে মানসম্মত কোন হোটেলে উঠেন। দিনভর বিভিন্ন রুমে রেকি করেন। শেষে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন অতিথির রুম থেকে বিভিন্ন জিনিস চুরি করে সটকে পড়েন। তার এসব কাজে সহযোগিতা করে সুমন নামের আরো এক ব্যক্তি। হোটেল ফেভার ইনেও তারা একই রকম ভাবে রুম ভাড়া করেন।

এসময় এক ব্যক্তি তার রুমে রাখা মোবাইল, ল্যাপটপ না পেলে অভ্যর্থনা ডেস্কে অভিযোগ করেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় শওকত ও সুমন এই চুরি করেছে।

পরে তাৎক্ষনিক ঘটনা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ শওকতকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যায় সুমন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শওকত চুরির কথা স্বীকার করেন। এসময় তিনি মাদক সরবরাহ ও সেবনের কথাও স্বীকার করেন। তার এই কাজে সহযোগিদের নামও প্রকাশ করেন শওকত। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান কতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ।