চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮

ছয় শর্তে জাপা-মজলিস সমঝোতা

প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১১ ১৬:২৮:২২ || আপডেট: ২০১৮-০৮-১১ ১৬:২৮:২২

কোনো বিষয়ে একটি অবস্থান নিয়ে তাতে অটল থাকতে পারেন না হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা টিপ্পনির মধ্যেই সাবেক রাষ্ট্রপতি তার চরিত্রের এই দিকটি স্বীকার করলেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেথে কওমি মাদ্রসাকেন্দ্রীক ধর্মভিত্তিক দল খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন এরশাদ।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে দুই দল।

সংবাদ সম্মেলনে নানা বিষয়ে কথার মধ্যে এরশাদ ‘কখন যে কী বলি আমি তার ঠিক নেই’- উল্লেখ করে হাসতে থাকেন। পরে হাসিমুখেই বলেন, ‘মানুষের দুঃখ সহ্য করতে পারি না আমি। এর জন্য হয়তো বলি।’

এরশাদের দ্বিমুখী অবস্থানের ইঙ্গিত এই সংবাদ সম্মেলনেও পাওয়া যায়। তিনি একবার বলেন, তিনশ আসনে প্রার্থী দেবেন, আবার বলেন, বিএনপির ভোটে এলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আবার এর আগে জাতীয় পার্টি ও খেলাফত মজলিস নির্বাচনে এক হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেয়। জানানো হয়, দুই দলই ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করবে।

২০০৭ সালের বাতিল হওয়া নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জাতীয় পার্টি। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনও একসঙ্গে করে দুই দল। তবে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মহাজোট ছেড়ে দেন এরশাদ। আর ওই নির্বাচনের আগে এরশাদ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে অপর অংশ নির্বাচনে যায়।

এরশাদ নিজেও ওই নির্বাচনে ‘অনিচ্ছায়’ রংপুর সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়ার পর তিনটি আসনেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন, তবে ঢাকা-১৭ ছাড়া অন্য দুই আসনে তার প্রার্থিতা রয়ে যায় সময় মতো প্রত্যাহার না হওয়ায়।

ভোটের পর এরশাদ শপথ নেবেন না জানালেও পরে তিনি শপথ নেন আর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বও তিনি পান।

আবার নানা সময় এরশাদ তার দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন, কিন্তু সেটা হয়নি। এরশাদ নিজেও তার মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব ছাড়েননি।

গত নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ঘোষণা এখনও দেয়নি। তবে তারা ভোট আসবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর যদি এমনটা হয়, তবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকবে কি না- এমন প্রশ্ন ছিল এরশাদের কাছে।

জবাব আসে, ‘সে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে গ্রহণ করব, এখন সেটা বলা যায় না। এখন বলতে পারি আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। সে অনুযায়ী আমরা দলকে আরও শক্তিশালী করছি।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির চিঠি চালাচালির বিষয়ে জানতে চাইলে এরশাদ বলেন, ‘সেটা আমি জানি না। কোনো দলের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমি একাই যথেষ্ট।’

অন্য এক প্রশ্নে এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচনে পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে এ নির্বাচন কমিশনই পারবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে।’

নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দরকার আছে কি না-জানতে চাইলে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সেজন্য আমরা আমাদের রাস্তায় চলছি। নিজেরা শক্তিশালী হচ্ছি। কার সঙ্গে কী সংলাপ হবে, তা আমরা জানি না।’

খেলাফত মজলিস নির্বাচনে কী প্রতীকে লড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘সেটা পরে আলোচনা হবে। আমরা রিকশা প্রতীকে লড়ব, না তারা লাঙ্গল প্রতীকে লড়বে।’

প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে সুশাসনের অভাব, মানুষ মুক্তি চায়, পরিবর্তন চায়। দেশের মানুষ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল চায়, তারা পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তন আসবে নির্বাচনের মাধ্যমে। সে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামের চেয়ে বড় শক্তি আর নাই। আর নির্বাচনের করে ক্ষমতায় গিয়ে আমরা সেটা প্রমাণ করব।’

দেশে এখন ১৫ লাখ লাইসেন্সবিহীন গাড়িচালক আছে জানিয়ে এরশাদ বলেন, ‘আমরাই পারব এর পরিবর্তন করতে, আমরাই পারব প্রতিকার করতে।’

খেলাফত মজলিসের আমির হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই দেশের মানুষ ইসলাম প্রিয়। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ছয় শর্তে জাপা-মজলিস সমঝোতা

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দুই দলই ছয়টি শর্তে একমত হয়েছে দুই দল। এগুলো হলো:

১. কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করা হবে না।

২. হযরত মোহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এটা সংবিধানে যুক্ত করা।

৩. কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা।

৪. ইসলাম, নবী, রাসূল ও সাহাবীদের নামে কটূক্তিকারীদের শাস্তির বিধান সম্বলিত আইন করা।

৫. সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল করা।

৬. সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।